টাঙ্গাইলের প্রান্তিক খামারিরা বর্তমানে উৎপাদন খরচের চেয়ে কম দামে ডিম ও মাংস বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। এর ফলে অনেক খামারি দেউলিয়া হওয়ার পথে চলে গেছেন। যদিও প্রাণিসম্পদ অধিদফতর লোকসান কাটাতে খামারিদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে।
খামারিরা জানাচ্ছেন, এক বস্তা মুরগির খাবারের দাম বর্তমানে ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকা। তবে বাজারে ডিমের দাম প্রতি পিস মাত্র সাত টাকা, যার ফলে প্রতিদিন খামারে প্রায় চার হাজার টাকা লোকসান হচ্ছে। এক ডিমে দুই টাকারও বেশি ক্ষতি। খামারিরা বলছেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘ সময় চলতে থাকলে খামার পরিচালনা করা অসম্ভব হয়ে যাবে।
অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন, প্রান্তিক খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হলে গ্রামীণ অর্থনীতি ও সামাজিক নিরাপত্তায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সঞ্জয় কুমার সাহা বলেন, “প্রান্তিক চাষিদের উৎপাদন খরচের একটি অংশ সরকার ভর্তুকি হিসেবে বহন করলে খামারিরা টিকে থাকতে পারবেন। যেমন, ১০ টাকার উৎপাদন খরচের মধ্যে সরকার তিন টাকা দিলে খামারির প্রকৃত খরচ দাঁড়াবে সাত টাকা। এতে বাজার স্থিতিশীল থাকবে এবং সাধারণ মানুষও স্বস্তি পাবে।”
খামারিদের সংকট সমাধানে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে প্রাণিসম্পদ অধিদফতর। টাঙ্গাইল জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. হেলাল উদ্দিন খান বলেন, “খামারিদের শতভাগ সহযোগিতা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। অধিদফতরের সঙ্গে যোগাযোগ এবং আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের মাধ্যমে রোজার আগেই একটি স্থায়ী সমাধান আনা হবে।”
খামারিরা অভিযোগ করেছেন, নানা সমস্যার কারণে টাঙ্গাইলে দেড় যুগে প্রায় ৮০ শতাংশ পোল্ট্রি ফার্ম বন্ধ হয়ে গেছে। এতে স্থানীয় খামারি ও গ্রামীণ অর্থনীতি উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সিএ/এসএ


