ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী মহান আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টির সেরা হিসেবে সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের জীবন পরিচালনার জন্য পূর্ণাঙ্গ নির্দেশনা প্রদান করেছেন। যুগে যুগে নবী-রাসূল পাঠিয়ে মানুষকে সঠিক পথের দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সমাজে শৃঙ্খলা ও পবিত্রতা বজায় রাখতে এসব বিধান অনুসরণ করা জরুরি বলে ইসলামি চিন্তাবিদরা মনে করেন।
ইতিহাসে দেখা যায়, অজ্ঞতার যুগে নারীকে দুর্বল ও অবহেলার চোখে দেখা হতো। অনেক সমাজে নারীর প্রতি অবমাননাকর আচরণ চালু ছিল। ইসলাম আবির্ভাবের মাধ্যমে নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয় এবং মানবতার মুক্তির বার্তা ছড়িয়ে পড়ে। নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্য শালীনতা ও পর্দার বিধান ইসলামে ফরজ করা হয়েছে।
পবিত্র কোরআনের সুরা নূরের আয়াতে মুমিন পুরুষ ও নারীদের দৃষ্টি সংযত রাখা এবং লজ্জাস্থানের হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সৌন্দর্য প্রদর্শনে সংযমের কথা বলা হয়েছে। ইসলামি ব্যাখ্যায় পর্দার মূল উদ্দেশ্য হলো সমাজে পবিত্রতা বজায় রাখা এবং অনৈতিকতা থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
ইসলামী আলেমদের মতে, পর্দা শুধু সামাজিক রীতি নয়, বরং ধর্মীয় বিধান। সুরা আহযাবের আয়াতে নারীদের বাইরে বের হওয়ার সময় চাদরের অংশ নিজেদের ওপর টেনে দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে, যাতে তারা নিরাপদ থাকে এবং হয়রানির শিকার না হয়। সাহাবিদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী নারীদের চেহারাও পর্দার অন্তর্ভুক্ত হিসেবে বিবেচিত।
হাদিসের বর্ণনায় দেখা যায়, রাসুলের (সা.) সময়েও নারীরা পর্দার বিধান কঠোরভাবে অনুসরণ করতেন। ইফকের ঘটনার বর্ণনায় হযরত আয়েশা (রা.) মুখ ঢাকার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন, যা পর্দার গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করে। আলেমদের মতে, পূর্ণ পর্দা পালনের ক্ষেত্রে হিজাবের পাশাপাশি নেকাবও গুরুত্বপূর্ণ।
ধর্মীয় বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সমাজে নৈতিকতা রক্ষা, যুবসমাজকে সুরক্ষা এবং নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্দা বিধানের যথাযথ অনুসরণ সময়ের দাবি। কোরআন, হাদিস ও সাহাবিদের আমল থেকে প্রমাণিত হয়, হিজাব ও নেকাব শুধু ঐতিহ্য নয়, বরং এটি একটি ফরজ বিধান হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে মুসলমানরা পালন করে আসছেন।
সিএ/এমআর


