শীতের মরশুমে ত্বক নিস্তেজ ও শুষ্ক হয়ে পড়ে। তাই উজ্জ্বল ও সুস্থ ত্বক পেতে প্রতিদিন কোনো একটি মৌসুমি ফল খাওয়া জরুরি। ফলের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, পানি, এনজাইম এবং ভিটামিন ত্বকে ভিতর থেকে পুষ্টি যোগ করে, ত্বককে নরম ও দীপ্তিময় রাখে। এই শীতে উজ্জ্বল ত্বকের জন্য খাদ্যতালিকায় এই ৫টি ফল অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন।
কমলা
কমলা ত্বকের তাৎক্ষণিক উজ্জ্বলতা আনে, নিস্তেজ ভাব কমায় এবং কালো দাগ দূর করতে সহায়ক। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ কমলা কোলাজেন উৎপাদনে সহায়তা করে এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমায়। সকালের রুটিনে এক গ্লাস তাজা কমলার রস অথবা আস্ত কমলা খাওয়ার পর ভিটামিন সি যুক্ত ফেসওয়াশ ও সেরাম ব্যবহার করলে ত্বক দীপ্তিময় হয়।
পেয়ারা
পেয়ারা ত্বকের নির্জীব ভাব দূর করে এবং প্রাথমিক বার্ধক্যের লক্ষণ প্রতিরোধে সাহায্য করে। কমলার চেয়ে এতে ৪ গুণ বেশি ভিটামিন সি থাকে, যা ত্বকের উজ্জ্বলতার জন্য বিশেষ কার্যকর। শীতকালে পাকা পেয়ারার সামান্য লবণ মিশিয়ে খাওয়া যায়, অথবা রস হিসেবে ডায়েটে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। নিস্তেজ ও ক্লান্ত ত্বক পুনরুজ্জীবিত করার জন্য এটি উপযুক্ত।
ডালিম
ডালিম হাইড্রেশন বজায় রাখে, চোখের নিচের কালো দাগ কমায় এবং বার্ধক্য প্রতিরোধে সহায়তা করে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ এই ফল ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি করে এবং কোলাজেন উৎপাদনে ভূমিকা রাখে। ডায়েটে খাওয়ার পাশাপাশি রূপচর্চায়ও ব্যবহার করা যায়। টক দইয়ের সঙ্গে ডালিমের রস মিশিয়ে ১৫–২০ মিনিট ত্বকে লাগানো যেতে পারে।
আপেল
আপেল ত্বকের দাগ ও রুক্ষতা দূর করতে সহায়তা করে। এতে প্রচুর কোয়ারসেটিন থাকে, যা ত্বকের জন্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও সুরক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে। প্রতিদিন একটি আপেল খেলে শরীর ও ত্বক দুটোই ভালো থাকে। রূপচর্চায় ব্যবহার করতে চাইলে আপেলবাটা ও অলিভ অয়েল মিশিয়ে ২০ মিনিট মুখ, গলা ও ঘাড়ে লাগিয়ে ধুয়ে নেওয়া যায়।
বরই
বরই ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও খনিজে ভরপুর। এটি পরিবেশগত দূষণ, অতিবেগুনি রশ্মি ও মানসিক চাপের কারণে সৃষ্ট ক্ষতিকর ফ্রি র্যাডিকেল থেকে ত্বক রক্ষা করে। অকালবার্ধক্য, বলিরেখা, কালো দাগ ও রুক্ষতা প্রতিরোধ করে ত্বক উজ্জ্বল ও সুস্থ রাখে। বরই ত্বকের কোলাজেন উৎপাদন বৃদ্ধি করে এবং সুরক্ষা স্তর শক্তিশালী করে।
সিএ/এসএ


