নতুন সময়ে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় ধাক্কার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
৯টি দুর্বল ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) অবসায়নের সিদ্ধান্তে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারহোল্ডাররা প্রায় শূন্যে চলে যেতে পারেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আটটি তালিকাভুক্ত এনবিএফআইয়ের শেয়ারহোল্ডারদের হাতে প্রায় ১০১ কোটি শেয়ার রয়েছে, যা কার্যত শূন্য হয়ে যাওয়ার মুখে।
বাজার বিশ্লেষকরা জানান, এসব শেয়ারের অভিহিত মূল্যে বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি দাঁড়াবে ১ হাজার ৮ কোটি টাকা। আর বাজারমূল্য হিসাবেও ক্ষতির অঙ্ক কম নয়; শেয়ারের গড় দর বর্তমানে এক টাকার নিচে নেমে এসেছে। ফলে বিনিয়োগকারীদের ন্যূনতম ক্ষতি প্রায় ১০০ কোটি টাকার বেশি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্ষদ গত ৩০ নভেম্বর ব্যাংক রেজল্যুশন অর্ডিন্যান্স, ২০২৫-এর আওতায় এফএএস ফাইন্যান্স, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি, প্রিমিয়ার লিজিং, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং ও আভিভা ফাইন্যান্স-এর অবসায়নের অনুমোদন দেয়। এর মধ্যে আভিভা ফাইন্যান্স ছাড়া বাকি আটটি প্রতিষ্ঠান পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত। এই আটটির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১০ হাজার ৫০৭ কোটি টাকার বেশি, যেখানে গড় খেলাপির হার ৮৭ শতাংশ ছাড়িয়েছে।
অবসায়ন প্রক্রিয়ায় সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য কোনো অবশিষ্ট থাকবে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এই প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার প্রতি গড় নিট সম্পদমূল্য ঋণাত্মক ৯৫ টাকা। আইন অনুযায়ী শেয়ারহোল্ডাররা কিছু পাওয়ার অধিকার রাখেন না।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আইনের কঠোর ব্যাখ্যার বাইরে মানবিক ও ন্যায্যতার দিকও বিবেচনা করা উচিত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আল-আমিন বলেন, “সরকার যখন আমানতকারীদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করছে, তখন সাধারণ বিনিয়োগকারীদের পুরোপুরি বাদ দেওয়া উচিত নয়।” একই মত দিয়েছেন বিএসএম এবং বিআইবিএম-এর সাবেক মহাপরিচালক তৌফিক আহমেদ চৌধুরী। তিনি বলেন, “বোর্ডের লুটেরা ও অনিয়মকারীদের শাস্তি নিশ্চিত না করে ৭০ শতাংশ শেয়ারধারীর শেয়ার শূন্য ঘোষণা করা বাজারে আস্থা ফিরবে না।”
বর্তমানে এই ৯টি প্রতিষ্ঠানে আটকে থাকা আমানতের পরিমাণ ১৫ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা। সরকার প্রাথমিকভাবে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা দিয়ে আমানত ফেরত দেয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে। তবে অবসায়ন প্রক্রিয়ায় বিনিয়োগকারীদের জন্য কোনো ক্ষতিপূরণের পরিকল্পনা নেই। বিনিয়োগকারী সংগঠনগুলো অবসায়ন স্থগিত ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে, কিন্তু পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি এ বিষয়ে নীরব অবস্থানে রয়েছে।
বিএসইসির পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম জানান, “অবসায়নের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবনা এলে কমিশন বিবেচনা করবে, কী করণীয়। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিএসইসির অনুরোধ থাকবে, যেভাবে আমানতকারীদের জন্য সরকারের অর্থ বরাদ্দ আছে, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থও দেখা হোক।”
সিএ/এসএ


