ভারতের কর্ণাটকে অনাকাঙ্ক্ষিত এক দুর্ঘটনায় ঘুড়ির ধারালো সুতায় গুরুতর আহত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন এক মোটরসাইকেলচালক। নিহত ব্যক্তির নাম সঞ্জুকুমার হোসামানি, বয়স ৪৮ বছর।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়, কর্ণাটকের বিদার জেলার তালামাদাগি সেতুর কাছ দিয়ে মোটরসাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় সঞ্জুকুমারের গলায় টানটান অবস্থায় থাকা ঘুড়ির সুতা পেঁচিয়ে যায়। এতে তার গলা গভীরভাবে কেটে যায় এবং প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ শুরু হয়।
দুর্ঘটনার পর তিনি মোটরসাইকেল থেকে পড়ে গেলেও শেষ মুহূর্তে নিজের মেয়ের নম্বরে ফোন করার চেষ্টা করেন। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি মোবাইলে নম্বর ডায়াল করার চেষ্টা করছেন। এ সময় এক পথচারী তাকে দেখতে পেয়ে কাপড় দিয়ে ক্ষতস্থানে চাপ দিয়ে রক্তপাত বন্ধের চেষ্টা করেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স ডাকা হলেও সেটি ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই সঞ্জুকুমার মারা যান।
ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে মকর সংক্রান্তি উপলক্ষে ঘুড়ি ওড়ানো একটি ঐতিহ্যবাহী উৎসব। আগে ঘুড়ি ওড়াতে কাচের গুঁড়ো মাখানো সুতির সুতা ব্যবহার করা হতো। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সুতির পরিবর্তে নাইলনের সুতা ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সস্তা ও টেকসই হওয়ায় এটি জনপ্রিয় হলেও এর ধারালো বৈশিষ্ট্য অনেক সময় প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে।
বিশেষ করে মোটরসাইকেলচালকেরা এ ধরনের দুর্ঘটনার সবচেয়ে বেশি শিকার হচ্ছেন। রাস্তা বা ফ্লাইওভারের ওপর আড়াআড়িভাবে থাকা পাতলা নাইলনের সুতা সহজে চোখে পড়ে না, ফলে চলন্ত অবস্থায় এর সঙ্গে গলা বা শরীর জড়িয়ে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটে।
ভারতে ঘুড়ির সুতায় গলা কেটে মৃত্যুর ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে বাড়ছে। গত বছরের জুলাইয়ে উত্তর দিল্লির রানি ঝাঁসি ফ্লাইওভারে ২২ বছর বয়সী ব্যবসায়ী যশ গোস্বামী স্কুটার চালানোর সময় একইভাবে নিহত হন। এর আগে ২০২২ সালে হায়দারপুর ফ্লাইওভারে এক মোটরসাইকেলচালকের মৃত্যু হয়। পাশাপাশি ২০২৩ সালের জুলাইয়ে দিল্লির পশ্চিম বিহারে ঘুড়ির সুতায় প্রাণ হারায় সাত বছর বয়সী এক শিশু।


