মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকির মধ্যেও ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী এবং গ্রিনল্যান্ডের শীর্ষ নেতা পরিষ্কার ভাষায় বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র নয়, গ্রিনল্যান্ডের মানুষ ডেনমার্ককেই বেছে নেবে। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনে ডেনিশ প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেনের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেনস-ফ্রেডেরিক নিলসেন এ কথা জানান।
জেনস-ফ্রেডেরিক নিলসেন বলেন, “গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন হতে চায় না। যুক্তরাষ্ট্রের দ্বারা শাসিত হতে চায় না। যদি আমাদের এখনই যুক্তরাষ্ট্র এবং ডেনমার্কের মধ্যে যেকোনো একটিকে বেছে নিতে বলা হয়, আমরা ডেনমার্ককেই বেছে নেব।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের জন্য স্পষ্ট হওয়া উচিত, আমরা নিজেদের ভবিষ্যৎ স্বাধীনভাবে নেব। যুক্তরাষ্ট্রকে নির্বাচনের বিকল্প হিসেবে দেখছি না।”
ডেনিশ প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন বলেন, “আমাদের নিকটতম মিত্রের কাছ থেকে এই ধরনের চাপ সম্পূর্ণরূপে অগ্রহণযোগ্য। গ্রিনল্যান্ডে যদি সামরিক শক্তি প্রয়োগ করা হয়, তা ন্যাটো জোটের সমাপ্তি ঘটাতে পারে।”
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই মন্তব্যের জবাবে বলেন, “এটা তাদের সমস্যা, আমি একমত নই। এটি তাদের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে।”
গ্রিনল্যান্ড বিশ্বের সবচেয়ে কম জনবসতিপূর্ণ অঞ্চলগুলোর মধ্যে একটি হলেও আর্কটিক ও উত্তর আমেরিকার মধ্যবর্তী অবস্থানের কারণে সামরিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা রয়েছে এবং আর্কটিক অঞ্চলে জাহাজ চলাচল নজরদারি করা হয়। ট্রাম্প বারবার বলেছেন, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাটি রয়েছে যেখানে শতাধিক মার্কিন সেনা অবস্থান করছে এবং চুক্তি অনুযায়ী আরও সেনা পাঠানোর সুযোগ রয়েছে।
সিএ/এএ


