অনেকেই মনে করেন, ব্রণ কেবল বয়ঃসন্ধিকালের বা টিনএজারদেরই সমস্যা। কিন্তু বর্তমানে ২৫ থেকে ৫০ বছর বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের মুখেও ব্রণের সমস্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। চিকিৎসা পরিভাষায় একে বলা হয় অ্যাডাল্ট অ্যাকনি। কর্মব্যস্ত জীবন, দূষণ, মানসিক চাপ এবং খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনের কারণে এই বয়সেও ব্রণের সমস্যা পিছু ছাড়ছে না বলে জানান বিশেষজ্ঞরা।
টিনেজ বয়সের ব্রণ সাধারণত টি-জোন অর্থাৎ কপাল ও নাকের আশপাশে বেশি দেখা যায়। কিন্তু প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে ব্রণ বেশি হয় চোয়াল, থুতনি ও গলার আশপাশে। এই অংশগুলোতে বারবার বড় ও ব্যথাযুক্ত ব্রণ দেখা দিলে সেটিকে অ্যাডাল্ট অ্যাকনির লক্ষণ হিসেবে ধরা হয়।
নারীদের ক্ষেত্রে এই সমস্যার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। হরমোনের ওঠানামার কারণে পিরিয়ড শুরুর আগে, গর্ভাবস্থায় কিংবা মেনোপজের সময় ব্রণ বেড়ে যেতে পারে। এ ছাড়া পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোমে আক্রান্তদের শরীরে অ্যান্ড্রোজেন হরমোন বেড়ে যায়, যা ত্বকের তেল গ্রন্থিকে অতিরিক্ত সক্রিয় করে ব্রণ তৈরি করে।
অতিরিক্ত মানসিক চাপও বড় একটি কারণ। স্ট্রেসের সময় কর্টিসল হরমোন বেড়ে যায়, যা ত্বকের তেল উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে রোমকূপ বন্ধ হয়ে বড় আকারের ব্রণ তৈরি হয়, যা অনেক সময় দীর্ঘদিন পর্যন্ত সেরে ওঠে না।
ভুল প্রসাধনী বা স্কিনকেয়ার পণ্য ব্যবহার করলেও ব্রণের ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষ করে যাদের ত্বক তৈলাক্ত, তারা যদি ভারী মেকআপ বা রোমকূপ বন্ধ করে এমন পণ্য ব্যবহার করেন, তাহলে ত্বকে জমে থাকা তেল ও ময়লা থেকে ব্রণ তৈরি হয়।
যাদের ব্রণের সঙ্গে সঙ্গে মুখে অবাঞ্ছিত লোম গজাচ্ছে, ওজন হঠাৎ বেড়ে যাচ্ছে বা পিরিয়ড অনিয়মিত হচ্ছে, তাদের ক্ষেত্রে বিষয়টি শুধু ত্বকের সমস্যায় সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। এ ধরনের লক্ষণ হরমোনজনিত বড় কোনো সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে, তাই দ্রুত চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ বা হরমোন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
ব্রণ কমাতে নিয়মিত ত্বক পরিষ্কার রাখা গুরুত্বপূর্ণ। দিনে অন্তত দুইবার স্যালিসাইলিক অ্যাসিড বা বেনজাইল পারঅক্সাইডযুক্ত ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুলে অতিরিক্ত তেল ও মৃত কোষ দূর হয়। পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাসেও পরিবর্তন আনতে হবে। অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার এবং কিছু ক্ষেত্রে দুগ্ধজাত পণ্য ব্রণ বাড়াতে পারে বলে গবেষণায় দেখা গেছে। তাই খাবারে বেশি করে শাকসবজি ও ফল রাখার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
পর্যাপ্ত পানি পান ও নিয়মিত ঘুমও ব্রণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক। দিনে তিন থেকে চার লিটার পানি পান এবং সাত থেকে আট ঘণ্টা গভীর ঘুম শরীর থেকে টক্সিন বের করতে ও মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি ব্রণ খোঁটা বা ফাটানোর অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে, কারণ এতে সংক্রমণ ছড়িয়ে দাগ স্থায়ী হয়ে যেতে পারে।
সানস্ক্রিন বা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের সময় নন-কমেডোজেনিক লেখা আছে কি না, তা দেখে নেওয়া জরুরি। এই ধরনের পণ্য রোমকূপ বন্ধ করে না, ফলে নতুন ব্রণ হওয়ার ঝুঁকি কমে।
সিএ/এমআর


