ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলায় এক সপ্তাহ ধরে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশার কারণে বোরো ধানের বীজতলায় ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ঠান্ডার তীব্রতায় অনেক স্থানে চারাগাছ পচে যাওয়ায় চাষিরা বিপাকে পড়েছেন। এতে চলতি মৌসুমে বোরো আবাদ ও উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের বিষয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।
ফুলবাড়িয়া উপজেলার কুশমাইল এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, ভোরের আলো ফুটতেই মাঠ ঢেকে যাচ্ছে ঘন কুয়াশায়। তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক নিচে নেমেছে। এই প্রতিকূল আবহাওয়ায় বোরো বীজতলায় ছত্রাকের আক্রমণ বেড়ে গেছে। অনেক জায়গায় সবুজ হওয়ার আগেই চারাগাছ হলদে হয়ে শুকিয়ে মারা যাচ্ছে। কোথাও কোথাও বীজ মাটির নিচেই পচে গেছে।
আগাম ব্রি ধান ও ব্রি–২৮ জাতের বীজতলার ক্ষতি তুলনামূলক কম হলেও হাইব্রিড ধানের বীজতলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে। ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলার প্রায় সব উপজেলাতেই একই চিত্র লক্ষ্য করা গেছে।
ফুলবাড়িয়া উপজেলার কুশমাইল চকরাধাকানাই এলাকার কৃষক গোলাম মোস্তাফা বলেন, এই বীজতলার ওপরই পুরো মৌসুমের আশা ছিল। কিন্তু টানা ঠান্ডায় অনেক চারা পচে গেছে। এখন নতুন করে বীজতলার তৈরিরও সুযোগ নেই।
নজরুল ইসলাম নামের আরও একজন কৃষক বলেন, আমার বীজতলার অর্ধেকই নষ্ট হয়েছে। এখন কী করবো বুঝতে পারছি না। সরকার সহযোগিতা না করলে বিপদে পড়ব।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যমতে, ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলায় চলতি মৌসুমে বোরো বীজতলার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩০ হাজার ৬৮৯ হেক্টর। তবে বাস্তবে ৩২ হাজার ৮৩১ হেক্টর বীজতলা তৈরি হয়েছে।
ময়মনসিংহ অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক তৌহিদ আহমেদ খান বলেন, শৈত্যপ্রবাহের কারণে কিছু এলাকায় বীজতলার ক্ষতি হয়েছে। তবে মোট বীজতলার পরিমাণ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি হওয়ায় আবাদ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা কম। ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে মাঠপর্যায়ে কৃষকদের নানা পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ক্ষতির পরিমাণ বেশি হলে সরকার প্রণোদনার বিষয়টি বিবেচনা করবে।
চলতি মৌসুমে ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলায় বোরো আবাদে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৬৮ হাজার ৮৭২ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে ময়মনসিংহ জেলায় ২ লাখ ৬৩ হাজার ৭৫০ হেক্টর, জামালপুরে ১ লাখ ২৭ হাজার ৬২৫ হেক্টর, শেরপুরে ৯১ হাজার ৯৪৯ হেক্টর এবং নেত্রকোনায় ১ লাখ ৮৫ হাজার ৫৪৮ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সূত্র
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর, ময়মনসিংহ
সিএ/এসএ


