একটা সময় ছিল যখন মানুষ সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে হাটে গিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতেন। নির্দিষ্ট ওই দিনের জন্য কেনাকাটা জমিয়ে রাখা হতো। এরপর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় নিত্যদিনের বাজার। মানুষ বাজারে গিয়ে দোকান ঘুরে কিনতেন তাদের পছন্দের জিনিসপত্র। প্রযুক্তির উৎকর্ষ এবং ইন্টারনেটের উত্থানের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অনলাইন বাজার। এখন আর শপিং মলে না গিয়েও ঘরে বসেই কেনাকাটা করা সম্ভব। শুধু অর্ডার করলেই পণ্য পৌঁছে যাচ্ছে ঘরের দুয়ারে।
মানুষের ব্যস্ততা এবং অনলাইনের সহজলভ্যতার কারণে অনলাইন কেনাকাটা দিন দিন বেড়েই চলেছে। সময় বাঁচাতে অনেকে অনলাইনে কেনাকাটার দিকে ঝুঁকছেন। তাই যেকোনও অনুষ্ঠান বা নিত্যদিনের কেনাকাটা অনলাইন মাধ্যমেও করা হচ্ছে। তবে ক্রেতাদের মধ্যে পণ্যের মান এবং বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে কিছু প্রশ্নও থেকে যায়।
বেসরকারি চাকরিজীবী মাহফুজুর রহমান জানান, ‘অনলাইনে কেনাকাটা করি মূলত সময় বাঁচাতে। ব্যস্ততার কারণে শপিং মলে যাওয়া হয় না। এবার ঈদে কিছু শাড়ি অনলাইনেই অর্ডার করেছি। তবে সময় থাকলে সরাসরি মার্কেটে গিয়ে কেনাকাটা করাই ভালো, কারণ আমাদের দেশে খুব বেশি বিশ্বাসযোগ্য প্রতিষ্ঠান নেই।’
অন্য একজন বেসরকারি চাকরিজীবী সিনথিয়া রহমান বলেন, ‘আমার প্রায় ৮০ ভাগ কেনাকাটা অনলাইনে হয়। অফিসের পর বাসার কাজের ফাঁকে এটি ভরসার উৎস। বাসার চামচ থেকে বিছানার চাদর পর্যন্ত সব অনলাইনে কিনি। শুধু মাপ-জোকের পণ্যের জন্য শপে যাই। এবার ঈদের জন্য ৩টি শাড়ি অর্ডার করেছি, যা দ্রুত পৌঁছাবে।’
মুন্সিগঞ্জের রিমানা আফরোজ রূপা জানিয়েছেন, ‘অনলাইন কেনাকাটা শুধু সময় বাঁচায় না, দূরত্বও কমায়। সাধারণত আমার কেনাকাটা ঢাকায় করা হতো, এখন অনলাইনেই পেয়ে যাচ্ছি। তবে শাড়ি বা ড্রেস কিনলে অনেক সময় রঙ বা কাপড় ভিন্ন হয়। তাই সব সময় বিশ্বাসযোগ্য পেজ থেকে কেনাই ভালো।’
অনলাইন কেনাকাটা দীর্ঘদিন ধরে করে আসছেন হাসনাত। তার মতে, ‘বিশ্বাসযোগ্য পেজ থেকে কেনাকাটা করা উচিত। হেডফোন, হাতঘড়ি অনলাইনে কিনি, পোশাক হলে ব্র্যান্ডেড শোরুমের পেজ থেকে। না হলে প্রতারিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।’
দেশীয় ব্র্যান্ড দেশালের বসুন্ধরা সিটি আউটলেটের ম্যানেজার মো. ইব্রাহিম সজিব বলেন, ‘আমাদের শোরুমে থাকা সব প্রোডাক্ট অনলাইনে ওয়েবসাইটে পাওয়া যায়। ঈদে বিক্রি শোরুমের তুলনায় অনলাইনে বেশি। অনলাইনে পণ্য পছন্দ না হলে তা ডেলিভারিম্যানের কাছে ফেরত দিয়ে পরিবর্তন করা যায়।’
অনলাইনে ব্যবসা শুরু করেছেন মো. রাফি। ‘সলো ভাইব’ নামের পেজ থেকে জুতা বিক্রি শুরু করেছেন। তিনি জানান, ‘শপ নেই, বাসাটাকেই স্টোর হিসেবে ব্যবহার করি। অনলাইনে ভালো ব্যবসা হচ্ছে, আশা করি আরও বড় হবে।’
মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্যমতে, গত বছরের তুলনায় এই বছর মার্চেন্ট ট্রানজেকশন বেড়েছে গড়ে ৩৫ শতাংশ।
তবে অনলাইনে কেনাকাটা না করে সরাসরি দোকানে যেতেও ক্রেতারা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। সরোয়ার হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশে অনলাইন বাজার এখনও সঠিকভাবে গড়ে ওঠেনি। দেখা-শোনা ছাড়া কেনা ঝুঁকিপূর্ণ। সরাসরি মার্কেটে কেনাই ভালো।’
আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘ঈদের আগে মার্কেটে ঘুরে কেনাকাটার আনন্দ আলাদা। সব অনলাইন হয়ে গেলে পরিবারের আনন্দও কমে। প্রযুক্তি থাকলেই সব ভরসা না করা উচিত, সময় বের করে পরিবারকে সময় দিতে হবে।’
সিএ/এমআর


