জীবিত অবস্থায় যেহেতু কামভাবের কারণে গায়রে মাহরাম নারীর শরীর স্পর্শ করা নিষিদ্ধ, তাই মৃত্যুর পরও অপ্রয়োজনীয়ভাবে নারীর লাশ গায়রে মাহরাম পুরুষদের স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকা উত্তম। সাধারণভাবে, কোনো নারীর মৃত্যুর পর তার লাশ বহন, খাটিয়া বা কফিনে রাখা এবং কবরে নামানো কাজে মাহরাম পুরুষদের অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।
তবে যদি কোনো মাহরাম পুরুষ উপস্থিত না থাকে, গায়রে মাহরাম পুরুষরাও লাশ বহন করতে এবং কবরস্থাপন করতে পারেন। হানাফি ফিকহের কিতাব বাদায়েউস সানায়ে’-তে বলা হয়েছে, নারীর লাশ কবরস্থাপন করার ক্ষেত্রে তার মাহরাম আত্মীয়দের অগ্রাধিকার থাকা উচিত, কারণ জীবিত অবস্থায় স্পর্শ বৈধ ছিল। কিন্তু মাহরাম না থাকলে অন্য পুরুষদের দ্বারা লাশ কবরস্থাপন করা জায়েজ এবং এতে কোনো অসুবিধা নেই। নারীর উপস্থিতি এই প্রক্রিয়ায় আবশ্যক নয়।
লাশ বহনের সময় খাট বা কফিনসহ স্পর্শ না করেও গায়রে মাহরাম পুরুষরা লাশ বহন করতে পারেন। সুন্নাহ অনুসারে, লাশ কবরস্থানে নেওয়ার জন্য খাট বহনের পদ্ধতি হলো: চার ব্যক্তি খাটের চারটি পা ধরে বহন করবেন এবং প্রত্যেকে কাঁধ পরিবর্তন করে খাটের চারপাশ সাময়িকভাবে কাঁধে নেবেন। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, খাট বহনের সময় চারদিক ধরে ধরা সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত। (সুনান ইবনে মাজা: ১৪৭৮)
প্রথম সামনের ডান পা কাঁধে নেওয়ার পর সাময়িকভাবে পেছনের ডান পা, এরপর সামনের বাম পা এবং শেষে পেছনের বাম পা কাঁধে নেওয়া হয়। কবরস্থানে যাওয়া পথে যতোবার থামতে হয়, থামা যাবে, তবে গ্রামাঞ্চলে প্রচলিত তিনবার থামার ধারণা সুন্নাহ নয়।
জানাজার নামাজ পড়া এবং দাফনে অংশগ্রহণ পৃথক সওয়াবের কাজ। রাসুল (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি জানাজার নামাজ পর্যন্ত উপস্থিত থাকে, সে এক ‘কিরাত’ সওয়াব পাবে, আর যে ব্যক্তি দাফন পর্যন্ত উপস্থিত থাকে, সে দুই ‘কিরাত’ সওয়াব পাবে। কিরাতের তুলনা দুটি বিশাল পর্বতের সমান। (সহিহ বুখারি: ১৩২৫)
সিএ/এমআর


