ইসলামে আত্মীয়তার নির্দিষ্ট কিছু সম্পর্ককে মাহরাম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যাদের সঙ্গে বিয়ে সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। প্রশ্ন উঠতে পারে, নিজের আপন ভাগনির মেয়েকে বিয়ে করা যাবে কি না এবং কেউ যদি অজ্ঞতাবশত এমন বিয়ে করে ফেলে, তাহলে তার করণীয় কী।
ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, নিজের আপন ভাগনি অর্থাৎ আপন বোনের মেয়ের সঙ্গে যেমন বিয়ে হারাম, তেমনি সেই ভাগনির মেয়েকেও বিয়ে করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কারণ মাহরাম নারীদের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক শরিয়তসম্মত নয় এবং এ ধরনের বিয়ে সংঘটিত হলেও তা বৈধ হিসেবে গণ্য হয় না।
না জেনে কেউ যদি আপন ভাগনির মেয়েকে বিয়ে করে ফেলে, তাহলে বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে তাদের আলাদা হয়ে যেতে হবে। পাশাপাশি এই ভুলের জন্য আন্তরিকভাবে আল্লাহ তাআলার কাছে তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। শরিয়তের দৃষ্টিতে এ ক্ষেত্রে একসঙ্গে বসবাস বা দাম্পত্য সম্পর্ক চালিয়ে যাওয়া বৈধ নয়।
কোরআনে আল্লাহ বলেছেন, মুমিন নারীদের বলো, যেন তারা তাদের দৃষ্টি সংযত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে, যা সাধারণত প্রকাশ পায় তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে। তারা যেন তাদের ওড়না দিয়ে বক্ষদেশ আবৃত করে রাখে। তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, নিজের ছেলে, স্বামীর ছেলে, ভাই, ভাইয়ের ছেলে, বোনের ছেলে, আপন নারীরা, তাদের ডান হাত যার মালিক হয়েছে, অধীনস্থ যৌনকামনামুক্ত পুরুষ অথবা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ বালক ছাড়া কারও কাছে নিজদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে। তারা যেন নিজদের গোপন সৌন্দর্য প্রকাশ করার জন্য সজোরে পদচারণা না করে। হে মুমিনগণ, তোমরা সকলেই আল্লাহর নিকট তওবা কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার। (সুরা নুর: ৩০, ৩১)
এই আয়াতে যাদের পর্দার বিধানের বাইরে রাখা হয়েছে, অর্থাৎ যাদের সঙ্গে দেখা দেওয়া জায়েজ বলা হয়েছে, তারাই মাহরাম। আর যাদের সঙ্গে দেখা দেওয়া জায়েজ, তাদের সঙ্গে বিয়ে করাও হারাম। এ ভিত্তিতেই ইসলামী আইনশাস্ত্রে মাহরাম সম্পর্কগুলো নির্ধারিত হয়েছে।
পুরুষের জন্য যেসব নারী মাহরাম হিসেবে গণ্য, তাদের মধ্যে রয়েছেন মা, দাদি ও নানি, নিজের মেয়ে ও নাতনি, নিজের বোন, ভাতিজি ও ভাগনি, ফুফু ও খালা, দুধ-মা ও দুধ-বোন, শাশুড়ি এবং ছেলের স্ত্রী। এসব সম্পর্কের কারও সঙ্গেই বিয়ে বৈধ নয়।
একইভাবে নারীদের জন্যও মাহরাম সম্পর্ক নির্ধারিত আছে। যেমন বাবা, দাদা ও নানা, ছেলে ও নাতি, সহোদর ভাই, চাচা ও মামা, শ্বশুর, দুধ-ভাই, ভাইয়ের ছেলে, বোনের ছেলে এবং মেয়ের স্বামী। এ সম্পর্কগুলোর মধ্যেও বিয়ে নিষিদ্ধ।
এ কারণে নিজের ভাগনির মেয়ে ইসলামের দৃষ্টিতে মাহরাম হওয়ায় তার সঙ্গে বিয়ে কোনো অবস্থাতেই বৈধ নয়। এমন বিয়ে হলে তা শরিয়তসম্মত বিবাহ হিসেবে গণ্য হবে না এবং সংশ্লিষ্টদের অবশ্যই আলাদা হয়ে যেতে হবে।
সূত্র: কোরআন, সুরা নুর: ৩০–৩১; ইসলামী ফিকহের বিধান
সিএ/এমআর


