বাবা-মা তাদের সন্তানদের নিয়ে জীবন সাজান, কিন্তু সন্তানের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নানা জটিলতার মুখোমুখি হন তারা। বিশেষ করে বয়ঃসন্ধিকাল একটি সময়, যখন বাবা-মা নিশ্চিত নন সন্তান কীভাবে আচরণ করবে। প্রত্যেক সন্তানের এই সময়ের অভিজ্ঞতা ভিন্ন হলেও মন নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন—ধৈর্য ধরুন, সন্তান একদিন সব বুঝবে। অনেক সময় বাবা-মা অনুভব করেন, সন্তান ভিন্নভাবে অনেক কিছু দেখছে। কী করবেন, কী করবেন না—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন।
মনোরোগ বিশেষজ্ঞ আতিকুল হক বলেছেন, বাবা-মা তাদের অগোছালো মনকে সামলাতে এবং সন্তানদের আচরণ বুঝতে নিয়মিত পরামর্শ নিতে পারেন। পরিচয় গোপন রেখে মানসিক টানাপড়েনের বিষয়ে সাহায্য চাওয়া যায়।
প্রশ্ন: একজন মা বলেন, তার মেয়ে ক্লাস এইটে উঠেছে এবং বয়ঃসন্ধিকাল পার করছে। মেয়ের বাবা মারা যান তার চার বছর বয়সে। মা দুই বছর আগে পুনরায় বিয়ে করেছেন। মেয়ের সঙ্গে মা সম্পর্ক খারাপ, কিন্তু বর্তমান জীবনসঙ্গীর সঙ্গে সম্পর্ক ভালো। একত্রে কাউন্সিলিং চেষ্টা করা হলেও সফল হয়নি। করণীয় কী?
উত্তর: মেয়ের আচরণের পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। প্রধান কারণ হলো বয়ঃসন্ধিকাল। ক্লাস এইট মানে বয়স ১৩–১৪ বছর, যা বয়ঃসন্ধিকালের মধ্যবর্তী পর্যায়। হরমোন পরিবর্তনের কারণে মেজাজ ওঠানামা করে, স্বতন্ত্র সত্তা খুঁজে নিতে চায় এবং বাবা-মায়ের কর্তৃত্ব চ্যালেঞ্জ করে। এছাড়া বাবা মারা যাওয়ার শোক এখনও প্রক্রিয়াকৃত হয়নি এবং নতুন পরিবারের আগমন তার মানসিক দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করেছে।
একক কাউন্সিলিং সবচেয়ে জরুরি। পেশাদার থেরাপিস্ট শেখাবেন কীভাবে মেয়ের সঙ্গে কথা বলবেন, কোন বিষয়ে সতর্ক হবেন, এবং বিদ্রোহকে ব্যক্তিগতভাবে নেবেন না। বয়ঃসন্ধিকালে আদেশ বা উপদেশ কার্যকর হয় না, বরং স্বাধীনতা দেওয়া, ছোটখাটো বিষয়ে ছাড় দেওয়া জরুরি। মেয়ের পরীক্ষা পাস করার মতো ধৈর্য প্রয়োজন, যেটি ঝড়ের মতো ধীরে ধীরে চলে যাবে।
প্রশ্ন: একজন ব্যক্তি বয়স ৫৬। সংসার চালিয়ে দুই সন্তান বড় করেছেন, যারা দেশের বাইরে। সঞ্চয় নেই। নতুন কিছু শুরু করতে চাইলে কী করা যায়?
উত্তর: এই বয়সে নতুন কিছু শুরু করার জন্য উপযুক্ত সময়। অভিজ্ঞতা, ধৈর্য ও বিশ্বাসযোগ্যতা রয়েছে। ফ্রিল্যান্স বা খণ্ডকালীন পরামর্শক হিসেবে কাজ করা যেতে পারে। শিক্ষাগত দক্ষতা থাকলে বাসায় ছাত্র-ছাত্রী পড়ানো যায়। গৃহস্থালি বা শখের কাজে যেমন টিফিন সার্ভিস বা ঘরে তৈরি খাবারের ব্যবসা শুরু করা যায়। ছোট করে শুরু করে ধীরে ধীরে সম্প্রসারণ সম্ভব। সন্তানদের সঙ্গে বিষয়টি শেয়ার করলে তারা মানসিকভাবে পাশে থাকবে।
সিএ/এমআর


