সিরিয়ায় জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট বা আইএসের বিরুদ্ধে নতুন করে ‘বড় আকারের’ সামরিক অভিযান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
এটি গত মাসে পালমিরা শহরে দুই মার্কিন সেনা ও এক বেসামরিক দোভাষী নিহত হওয়ার ঘটনার জবাবে পরিচালিত দ্বিতীয় দফার হামলা। এই অভিযানকে আইএসের অবকাঠামো ও তৎপরতা ধ্বংসের লক্ষ্যে পরিচালিত বৃহৎ সামরিক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে ওয়াশিংটন।
মার্কিন সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) শনিবার (১০ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে জানায়, অপারেশন হকআই স্ট্রাইকের অংশ হিসেবে সিরিয়াজুড়ে আইএসের একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে একযোগে হামলা চালানো হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, এই অভিযানের মাধ্যমে আইএসের সক্ষমতা দুর্বল করাই মূল লক্ষ্য।
সেন্টকম আরও জানায়, ‘আমাদের বার্তা স্পষ্ট: যদি তুমি আমাদের যোদ্ধাদের ক্ষতি করো, তাহলে আমরা তোমাকে খুঁজে বের করব এবং বিশ্বের যেখানেই থাকো হত্যা করব, তুমি যতই ন্যায়বিচার এড়াতে চেষ্টা করো না কেন।’ তবে এই হামলায় আইএসের কতজন সদস্য নিহত বা আহত হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
মার্কিন সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এই অভিযানে স্থানীয় একটি বাহিনী তাদের সঙ্গে অংশ নিয়েছে। তবে কোন বাহিনী এতে যুক্ত ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
সিবিএস নিউজকে দেওয়া তথ্যে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র বাহিনী যৌথভাবে ২০টিরও বেশি যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে ৩৫টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে ৯০টিরও বেশি স্থানে নিখুঁত হামলা চালিয়েছে। অভিযানে এফ-১৫ই, এ-১০, এসি-১৩০জে, এমকিউ-৯ ড্রোন এবং জর্ডানিয়ান এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ব্যবহার করা হয়েছে।
এর আগে গত ১৩ ডিসেম্বর সিরিয়ার পালমিরা শহরে আইএসের এক বন্দুকধারীর হামলায় দুই মার্কিন সেনা ও এক বেসামরিক দোভাষী নিহত হন। সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ওই হামলাকারী সিরিয়ার নিরাপত্তা বাহিনীর একজন সদস্য ছিলেন, যাকে কট্টরপন্থি মতাদর্শের কারণে আগেই বরখাস্ত করা হয়েছিল।
পালমিরা ইউনেসকো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন ধ্বংসাবশেষের জন্য পরিচিত একটি শহর, যা একসময় আইএসের দখলে ছিল। ওই হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই সিরিয়ার মধ্যাঞ্চলে ধারাবাহিক সামরিক অভিযান জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
গত ১৯ ডিসেম্বর অপারেশন হকআই স্ট্রাইক শুরু করে মার্কিন বাহিনী। এর আওতায় সিরিয়ার মধ্যাঞ্চলে আইএসআইএলের অবকাঠামো ও অস্ত্র মজুতসহ অন্তত ৭০টি লক্ষ্যবস্তুতে বড় পরিসরে হামলা চালানো হয়। ৩০ ডিসেম্বর সেন্টকম জানায়, এই অভিযানের পর থেকে প্রায় ২৫ জন আইএস যোদ্ধাকে হত্যা বা আটক করা হয়েছে।
কুর্দি-নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) দীর্ঘদিন ধরে সিরিয়ায় আইএসবিরোধী অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান মিত্র হিসেবে কাজ করে আসছে। তবে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের ক্ষমতাচ্যুতির পর থেকে ওয়াশিংটন দামেস্কের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গেও সমন্বয় ও সহযোগিতার সম্পর্ক বজায় রাখছে।
এদিকে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা থাকা সত্ত্বেও আলেপ্পোতে সিরীয় বাহিনী ও এসডিএফের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে। একদিনেই এসব সংঘর্ষে অন্তত ছয়জন নিহত এবং আরও প্রায় ৭০ জন আহত হয়েছেন। এতে সাম্প্রতিক কয়েক দিনের সংঘাতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮ জনে, আহতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে দুই শতাধিক।
এর মধ্যেই আলেপ্পোর শেখ মাকসুদ এলাকায় যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছে সিরীয় বাহিনী। তারা দাবি করেছে, আত্মসমর্পণের পর এসডিএফ যোদ্ধাদের বাসে করে অন্যত্র পাঠানো হচ্ছে। তবে এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে এসডিএফ।
সূত্র: আল জাজিরা
সিএ/এসএ


