কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপকে ‘বাস্তব হুমকি’ হিসেবে দেখছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো। ভেনেজুয়েলায় মার্কিন বাহিনীর সামরিক অভিযান ও দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর অপহরণের প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেন তিনি।
কয়েক মাসের হুমকি-ধামকির পর গত শনিবার (৩ জানুয়ারি) গভীর রাতে ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্র। রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন এলাকায় যুদ্ধবিমান থেকে বোমা বর্ষণ করা হয়। এরপর মাদুরো ও তার স্ত্রীকে তাদের বাসভবন থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রথমে হেলিকপ্টার, পরে জাহাজে করে তাদের নিউইয়র্কে নেওয়া হয়—যেখানে তারা বর্তমানে কারাবন্দী।
এর মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ভেনেজুয়েলা এখন থেকে ‘আমেরিকাই চালাবে’ এবং দেশটির তেলভাণ্ডারের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃত্বের কথাও উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে কলম্বিয়া ও কিউবাকেও ভেনেজুয়েলার মতো ‘পরিণতি’র হুমকি দেন তিনি।
গত রোববার (৪ জানুয়ারি) এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, কলম্বিয়ায় একজন ‘অসুস্থ ব্যক্তি’ দেশ চালাচ্ছেন, যিনি কোকেন উৎপাদন করে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি করতে পছন্দ করেন। পেত্রোকে ‘সাবধানে থাকতে’ হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। এর পরপরই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরমে ওঠে। জবাবে সাবেক বামপন্থি গেরিলা নেতা পেত্রো বলেন, প্রয়োজনে তিনি আবারও অস্ত্র ধরতে প্রস্তুত।
পরিস্থিতির মধ্যে গত বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাতে ট্রাম্প ও পেত্রোর মধ্যে ফোনালাপ হয়। ট্রাম্প পেত্রোকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানান। ফোনালাপের পর ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প এ কথোপকথনকে ‘বিরাট সম্মান’ হিসেবে উল্লেখ করেন। কলম্বিয়ার এক কর্মকর্তা জানান, এতে উভয় পক্ষের আগের বাগযুদ্ধ থেকে ‘১৮০ ডিগ্রি পরিবর্তন’ দেখা গেছে।
তবে বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পেত্রোর বক্তব্যে সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য উন্নতির ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অন্যান্য দেশকে নিজেদের সাম্রাজ্যের অংশ হিসেবে গণ্য করছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র ‘বিশ্বের ওপর আধিপত্য’ প্রতিষ্ঠার চেষ্টায় উল্টো ‘বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন’ হয়ে পড়ার ঝুঁকি নিচ্ছে।
সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসনবিরোধী কঠোর পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেন পেত্রো। ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) এজেন্টদের কর্মকাণ্ডকে তিনি ‘নাৎসি বাহিনী’র সঙ্গে তুলনা করেন।
ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপ প্রসঙ্গে পেত্রো জানান, প্রায় এক ঘণ্টার এই কথোপকথনের বেশিরভাগ সময়ই ছিল তাকে ঘিরে, পাশাপাশি কলম্বিয়ার মাদক পাচার, ভেনেজুয়েলা নিয়ে কলম্বিয়ার অবস্থান এবং যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে লাতিন আমেরিকায় বিদ্যমান ধারণা নিয়ে আলোচনা হয়।
সিএ/এসএ


