ডেস্কটপ কম্পিউটারের ব্যবহার ধীরে ধীরে কমে আসছে, আর তার জায়গা দখল করছে ল্যাপটপ। অফিসের কাজ, পড়াশোনা কিংবা বিনোদন—প্রায় সব ক্ষেত্রেই এখন ল্যাপটপের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। সহজে বহনযোগ্য এবং বহুমুখী ব্যবহারের সুবিধার কারণে ল্যাপটপ হয়ে উঠেছে দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ। তবে এই গুরুত্বপূর্ণ ডিভাইসটি দীর্ঘদিন ভালো রাখতে হলে কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলা জরুরি।
চার্জিংয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভুল হলো সারাক্ষণ চার্জারে লাগিয়ে রাখা। ল্যাপটপ ব্যবহার করলে নিয়মিত চার্জ দিতে হয় ঠিকই, কিন্তু দীর্ঘ সময় চার্জে থাকলে ব্যাটারির ক্ষমতা ধীরে ধীরে কমে যেতে পারে। এতে ব্যাটারির স্থায়িত্ব নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ডিভাইসের ভেতরের অংশেও ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হয়।
ল্যাপটপে অপ্রয়োজনীয় সফটওয়্যার ও অ্যাপ ইনস্টল করে রাখলে স্টোরেজ দ্রুত ভরে যায় এবং সিস্টেম ধীরগতির হয়ে পড়ে। এতে কাজের গতি কমে যায় এবং ডিভাইস অতিরিক্ত চাপের মধ্যে পড়ে। তাই নিয়মিত অপ্রয়োজনীয় ফাইল, সফটওয়্যার ও অ্যাপ মুছে ফেলা প্রয়োজন, যাতে ল্যাপটপ স্বাভাবিক গতিতে কাজ করতে পারে।
সফটওয়্যার আপডেট অনেকেই এড়িয়ে যান, কিন্তু এটি ল্যাপটপের নিরাপত্তা ও কর্মক্ষমতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অপারেটিং সিস্টেম এবং ব্যবহার করা অ্যাপ নিয়মিত আপডেট না করলে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ে এবং ভাইরাস বা ম্যালওয়্যারের আক্রমণের আশঙ্কা থাকে। আপডেটের মাধ্যমে সিস্টেমের ত্রুটি ঠিক হয় এবং পারফরম্যান্স উন্নত হয়।
চার্জ দেওয়ার সময় ল্যাপটপ কোথায় রাখা হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। চার্জে বসানোর সময় ল্যাপটপ শক্ত ও সমতল জায়গায় রাখা উচিত, যাতে বাতাস চলাচল স্বাভাবিক থাকে। বিছানা বা নরম জায়গায় রাখলে ভেন্টিলেশন বাধাগ্রস্ত হয় এবং ডিভাইস অতিরিক্ত গরম হয়ে যেতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতির কারণ হতে পারে।
নিরাপত্তার দিক থেকেও কিছু সতর্কতা মানা জরুরি। অজানা ইউএসবি কেবল, চার্জিং পোর্ট বা অপরিচিত ডিভাইস ল্যাপটপে সংযুক্ত করলে ডাটা চুরির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। একইভাবে ল্যাপটপ থেকে মোবাইল ফোন বা পাওয়ার ব্যাংকে চার্জ দেওয়া উচিত নয়, কারণ এতে ব্যাটারির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে এবং ব্যাটারির আয়ু কমে যেতে পারে।
সিএ/এমআর


