ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধ বন্ধ হলে দেশটিতে সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা নিয়ে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য অগ্রসর হচ্ছে, আর এই উদ্যোগে সমর্থন জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তা গ্যারান্টি জোরদার করতে ইউরোপীয় ও মিত্র দেশগুলোর উচ্চপর্যায়ের নেতারা প্যারিসে বৈঠক করেছেন।
আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, এই বৈঠকে ২৭ জন রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধানসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল কিয়েভের জন্য যুদ্ধোত্তর নিরাপত্তা কাঠামো ও গ্যারান্টি নির্ধারণ করা, যাতে যুদ্ধ শেষের পর ইউক্রেন আবারও হামলার মুখে না পড়ে।
আলোচনা শেষে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার একটি অভিপ্রায় ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেন। ঘোষণাপত্রে যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে ইউক্রেনে সেনা মোতায়েনের একটি কাঠামো নির্ধারণ করা হয়।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ বলেন, প্যারিস ইউক্রেনে কয়েক হাজার সেনা পাঠাতে পারে। এই সেনা মোতায়েনের উদ্দেশ্য হবে যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়া রোধ করা।
এই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি আটলান্টিকের দুই পাড়ের ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের ইঙ্গিত দেয়। বৈঠকে অংশ নেন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত স্টিভ উইটকফ, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং ইউরোপে ওয়াশিংটনের শীর্ষ জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনকিউইচ।
আলোচনার নেতৃত্বদানকারী স্টিভ উইটকফ বলেন, ট্রাম্প ‘নিরাপত্তা প্রোটোকলের পক্ষে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছেন’ এবং এই গ্যারান্টিগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যাতে ইউক্রেনের জনগণ জানতে পারে, যখন যুদ্ধ শেষ হবে, তখন এটি চিরতরে শেষ হয়ে যাবে। তিনি আরও বলেন, এই নিরাপত্তা কাঠামোর উদ্দেশ্য হলো ইউক্রেনে যে কোনো আক্রমণ বা ভবিষ্যৎ হামলা প্রতিরোধ করা।
ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার প্যারিসের এই বৈঠককে ‘একটি খুব, খুব বড় মাইলফলক’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ইউক্রেনীয়রা যদি চূড়ান্ত চুক্তি করতে চায়, তাহলে তাদের জানতে হবে যে চুক্তির পর তারা নিরাপদ থাকবে এবং তাদের একটি শক্তিশালী প্রতিরোধ ব্যবস্থা থাকবে।
সূত্র: আল জাজিরা
সিএ/এসএ


