নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার কাষ্টডোব বাঁকে ছোট যমুনা নদীর পূর্ব পাশে বাঁধের প্রায় দুই শ ফুট অংশ গত বর্ষা মৌসুমে ধসে পড়ে। একই সময়ে বাঁধের ওপর নির্মিত পাকা সড়কের প্রায় দুই ফুট অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও ক্ষতিগ্রস্ত অংশের কোনো সংস্কার কাজ শুরু হয়নি। এতে আগামী বর্ষা মৌসুমকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, গত বর্ষা মৌসুমে কাষ্টডোব বাঁকে ধসের আশঙ্কা দেখা দিলে এলাকাবাসী নিজেদের উদ্যোগে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেন। পরে নদীর পানি নেমে গেলে বাঁধের প্রায় দুই শ ফুট অংশ ধসে পড়ে। একই সঙ্গে সড়কের মাঝ বরাবর হালকা ফাটল দেখা দেয়। শুষ্ক মৌসুমে ঝুঁকিপূর্ণ অংশ সংস্কার না হলে আগামী বর্ষায় পুরো বাঁধ ধসে পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, নওগাঁর বদলগাছী উপজেলা একটি কৃষিপ্রধান অঞ্চল। এখানে ধানের তিন ফসলের পাশাপাশি সারা বছর সবজি চাষ হয়ে থাকে। বাঁধটি ভেঙে গেলে বাড়িঘরের পাশাপাশি কৃষিখাতে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, বসতবাড়ির ক্ষতির তুলনায় ফসলের ক্ষতির পরিমাণ হবে অন্তত দশ গুণ বেশি। এ ছাড়া ছোট যমুনা নদীর ওপর নির্মিত এই বাঁধ এলাকাবাসীর চলাচলের একমাত্র পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
স্থানীয়রা আরও জানান, বহু বছর আগে পারসোমবাড়ি থেকে বদলগাছী পর্যন্ত এই বাঁধের ওপর পাকা সড়ক নির্মাণ করা হয়। তবে বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ অংশে এক সপ্তাহের ভারী বর্ষাতেই সড়কের অর্ধেক অংশ ধসে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু না হলে যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হওয়ার শঙ্কাও রয়েছে।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এ কে এম রেজাউল করিম পল্টন বলেন, ‘দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ স্থানটি সংস্কার করা প্রয়োজন। নইলে এলাকাবাসী ক্ষতির মুখে পড়বে।’
এ বিষয়ে নওগাঁ জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আসিফ আহমেদ বলেন, ‘দুই-তিন শ ফুট ছোটখাটো ভাঙন কোনো বিষয় না। পদ্মার পাড়ে দুই-তিন কিলোমিটারজুড়ে ভাঙন দেখা দেয়। তার পরও আমরা বরাদ্দ চেয়েছিলাম, পাইনি। পেলে সংস্কার করা হবে।’
সিএ/এএ


