চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে বহুল আলোচিত আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি গনেশ প্রকাশ শ্রী গনেশকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৭। গনেশ নগরীর সেবক কলোনীর শেরীপ দাশের ছেলে। আলিফ হত্যা মামলার অভিযোগপত্রে নাম থাকা ৩৯ জন আসামির মধ্যে এ নিয়ে ২৩ জন গ্রেপ্তার হলো। এখনো পলাতক রয়েছেন ১৬ জন আসামি।
রোববার (১১ জানুয়ারি) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন র্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ. আর. এম. মোজাফ্ফর হোসেন। তিনি বলেন, ‘শনিবার সন্ধ্যায় কোতোয়ালী থানার লালদীঘী কোর্ট রোডে জেলা পরিষদ সুপার মার্কেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে গনেশকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সিএমপির কোতোয়ালী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’
ঘটনার পটভূমিতে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ইসকন থেকে বহিস্কৃত চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর জামিন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। ওই আদেশের পর চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে প্রিজন ভ্যান ঘিরে সনাতনী সম্প্রদায়ের লোকজন বিক্ষোভ শুরু করেন। প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে চিন্ময়কে কারাগারে নিয়ে যায়।
বিক্ষোভ চলাকালে আদালত সড়কে রাখা একাধিক যানবাহন ভাঙচুর করা হয়। পরে আদালতের সাধারণ আইনজীবী ও কর্মচারীরা একত্র হয়ে বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া করেন। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার একপর্যায়ে রঙ্গম কনভেনশন হল সড়কে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
এ ঘটনায় গত বছরের ২৯ নভেম্বর নগরীর কোতোয়ালী থানায় মামলা করেন নিহত আলিফের বাবা জামাল উদ্দিন। মামলায় ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১৫ থেকে ১৬ জনকে আসামি করা হয়। ওই মামলার সব আসামিই নগরীর রঙ্গম কনভেনশন হল সংলগ্ন বান্ডেল সেবক কলোনির বাসিন্দা বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
পরবর্তীতে গত বছরের ১ জুলাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (কোতোয়ালী) মাহফুজুর রহমান মোট ৩৯ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে চিন্ময় দাসকে প্রধান আসামি করা হয়। পরে ২৫ আগস্ট বাদির উপস্থিতিতে আদালত চিন্ময়সহ ৩৯ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। এদের মধ্যে ১৭ জন আসামি তখন পলাতক ছিলেন।
মামলার বাদির আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ৭ জানুয়ারি আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলা বিচারের জন্য চট্টগ্রামের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। মহানগর দায়রা জজ মো. হাসানুল ইসলাম এ আদেশ দেন এবং আগামী ১৪ জানুয়ারি পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেন।
সিএ/এএ


