Friday, March 20, 2026
24 C
Dhaka

মিয়ানমারে সেনা-নিয়ন্ত্রিত দ্বিতীয় দফার নির্বাচন শুরু

মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে রোববার (১১ জানুয়ারি) দ্বিতীয় পর্যায়ের ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে।

এর আগে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল তুলনামূলকভাবে কম। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের সমালোচনাও অব্যাহত রয়েছে। তাদের মতে, জান্তা সরকার নিজেদের শাসনকে বৈধতা দেওয়ার হাতিয়ার হিসেবেই এই নির্বাচন আয়োজন করছে।

২০২১ সালে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী তৎকালীন বেসামরিক সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করে। ওই সময় নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী অং সান সু চিকে আটক করা হয়। সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকেই দেশজুড়ে সহিংস সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে, যা প্রায় ৫ কোটি ১০ লাখ জনসংখ্যার দেশটির বিস্তীর্ণ অঞ্চলে গভীর প্রভাব ফেলেছে।

অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি ২০২০ সালের নির্বাচনে ভূমিধস জয় লাভ করেছিল। তবে চলতি নির্বাচনের জন্য দলটি নিবন্ধন করতে ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে জান্তাবিরোধী অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে এনএলডিকে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।

এই নির্বাচনে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো অংশ নেয়নি। জাতিসংঘ, পশ্চিমা দেশ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, কার্যকর কোনো বিরোধী শক্তির অনুপস্থিতিতে এই নির্বাচনকে প্রহসন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

প্রথম দফার ভোটে সেনা-সমর্থিত ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি বিপুল ব্যবধানে এগিয়ে ছিল। ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ভোটে ১০২টি আসনের মধ্যে দলটি ৯০টিতে জয় পায়। ওই নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৫২.১৩ শতাংশ, যা ২০১৫ ও ২০২০ সালের নির্বাচনের তুলনায় অনেক কম।

ক্রাইসিস গ্রুপের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা রিচার্ড হর্সি বলেন, ‘ইউএসডিপির ভূমিধস জয় অবাক করা বিষয় নয়। নির্বাচনী মাঠ তাদের অনুকূলে রাখা হয়েছে, শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী সরানো হয়েছে এবং ভোট বিরোধী কার্যক্রম দমন করার জন্য আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।’

ঘোষণা অনুযায়ী, চূড়ান্ত দফার ভোট আগামী ২৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। মোট ৩৩০টি প্রশাসনিক এলাকার মধ্যে ২৬৫টিতে ভোট নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যদিও এসব এলাকার কিছু অংশে জান্তার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেই।

সেনাবাহিনী এই নির্বাচনকে দেশকে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের পথে এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরছে। তবে বাস্তবতা হলো, মিয়ানমার বর্তমানে এশিয়ার অন্যতম গুরুতর মানবিক সংকটের মুখোমুখি।

আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটা প্রজেক্টের তথ্য অনুযায়ী, অভ্যুত্থানের পর থেকে দেশটিতে অন্তত ১৬ হাজার ৬০০ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, এই সংঘাতের কারণে ৩৬ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাতপূর্ণ পরিবেশে সেনা-নিয়ন্ত্রিত প্রশাসন গঠন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং এর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়াও কঠিন হবে।

এরই মধ্যে গত সপ্তাহে জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লাইং নির্বাচন সফল করার দাবি করেন এবং ভোটার উপস্থিতি বাড়ানোর আহ্বান জানান।

সিএ/এসএ

spot_img

আরও পড়ুন

চাঁদে কৃষির সম্ভাবনা, ছোলা উৎপাদনে বিজ্ঞানীদের সাফল্য

চাঁদে মানুষের স্থায়ী বসতি গড়ার স্বপ্নে নতুন মাত্রা যোগ...

সময়ের মূল্যায়নে রমজানের শিক্ষা

রমজান মাসের শেষ সময়কে ইবাদতের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধরা...

রমজানে মা-বাবার খেদমতে বাড়তি গুরুত্ব

পবিত্র রমজান মাসকে আত্মশুদ্ধি ও নেক আমলের মাস হিসেবে...

ঘরেই তৈরি করুন রেস্টুরেন্ট স্টাইল হালিম

ঘরোয়া উপায়ে পুষ্টিকর ও সুস্বাদু হালিম তৈরি করা যায়...

জামায়াতের রাজশাহী মহানগর কমিটি চাঁদাবাজি অস্বীকার

রাজশাহীতে মোটরসাইকেল বেচাকেনাকে কেন্দ্র করে জামায়াতের নেতা ও তাঁর...

মুরাদনগরে ঝড়ে ঘরের ওপর গাছ পড়ে নারীর মৃত্যু

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় কালবৈশাখীর সময় ঘরের ওপর গাছ ভেঙে...

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক স্থবির, যাত্রীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার পূর্ব পেন্নাই থেকে গৌরীপুর বাসস্ট্যান্ড হয়ে...

পদ্মা নদীতে লঞ্চের ধাক্কায় যাত্রী আহত

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথ তেলবাহী জাহাজের সঙ্গে যাত্রীবাহী...

শরীয়তপুরে শতবর্ষ ধরে মসজিদে ইফতারের আয়োজন

শরীয়তপুর সদর উপজেলার বুড়িরহাট জামে মসজিদে ১১৯ বছর ধরে...

চট্টগ্রামের টেরিবাজারে অগ্নিকাণ্ড, দুইজনের মৃত্যু

চট্টগ্রাম চট্টগ্রাম নগরের টেরিবাজারে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে...

শপিং ব্যাগ নিয়েও বাড়ছে ক্রেতা-বিক্রেতা দ্বন্দ্ব

ঈদকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন ফ্যাশন আউটলেটগুলোতে এখন ক্রেতাদের...

পারিবারিক কলহের ছায়ায় রহস্যজনক মৃত্যু

বান্দরবান বান্দরবান জেলা শহরতলির মেঘলা পর্যটনের দাঁতভাঙ্গাপাড়া এলাকায় পাহাড়ের...

কুমারখালী পুকুর থেকে নবজাতকের লাশ উদ্ধার

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার খাগড়বাড়িয়া গ্রামে পুকুর থেকে এক নবজাতকের...

কক্সবাজারে অবৈধ ট্রলিং বোট ও জাল উদ্ধার

কক্সবাজারের মহেশখালী এলাকায় অবৈধ আর্টিসানাল ট্রলিং বোট এবং ট্রলিং...
spot_img

আরও পড়ুন

চাঁদে কৃষির সম্ভাবনা, ছোলা উৎপাদনে বিজ্ঞানীদের সাফল্য

চাঁদে মানুষের স্থায়ী বসতি গড়ার স্বপ্নে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে বলে দাবি করেছেন বিজ্ঞানীরা। তাদের মতে, কৃত্রিমভাবে তৈরি চাঁদের মাটিতে সফলভাবে ছোলা উৎপাদন সম্ভব...

সময়ের মূল্যায়নে রমজানের শিক্ষা

রমজান মাসের শেষ সময়কে ইবাদতের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধরা হয়। এ সময় বেশি বেশি ইবাদত-বন্দেগি এবং আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের সুযোগ তৈরি হয়। ইসলামি...

রমজানে মা-বাবার খেদমতে বাড়তি গুরুত্ব

পবিত্র রমজান মাসকে আত্মশুদ্ধি ও নেক আমলের মাস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই মাসে ইবাদতের পাশাপাশি মা-বাবার সেবা ও তাদের সন্তুষ্টি অর্জনের ওপর বিশেষ...

ঘরেই তৈরি করুন রেস্টুরেন্ট স্টাইল হালিম

ঘরোয়া উপায়ে পুষ্টিকর ও সুস্বাদু হালিম তৈরি করা যায় সহজেই। বিভিন্ন ধরনের ডাল, গম ও মাংসের সংমিশ্রণে তৈরি এই খাবারটি বিশেষ করে রমজানে বেশ...
spot_img