অস্ট্রেলিয়ায় কিশোরদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার এক মাস পর দেশটির কিছু কিশোরের দৈনন্দিন রুটিনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। ১৪ বছর বয়সী অ্যামি জানায়, সে এখন তার ফোন থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন এবং অনলাইন আসক্তির টানও কমেছে।
নিষেধাজ্ঞা শুরুর প্রথম কয়েক দিনে অ্যামি তার ডায়েরিতে লিখেছিল, স্ন্যাপচ্যাটে ঢুকতে না পারলেও অভ্যাসবশত সকালে অ্যাপটি খুলতে হাত চলে যাচ্ছিল। চতুর্থ দিনে যখন ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটকসহ ১০টি প্ল্যাটফর্ম ১৬ বছরের নিচের অস্ট্রেলীয় শিশুদের জন্য বন্ধ করা হয়, তখন সে অনুভব করে যে, বন্ধুর সঙ্গে যোগাযোগের জন্য অন্য মাধ্যম ব্যবহার করা সম্ভব এবং স্ন্যাপচ্যাটের ‘স্ট্রিক’ ধরে রাখার চাপ না থাকায় মন মুক্তি পায়।
নিষেধাজ্ঞার ষষ্ঠ দিনে অ্যামির আগ্রহ আরও কমে যায়। সে লিখেছে, স্কুল শেষে আগে যেখানে স্ন্যাপচ্যাটে বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলত, এখন সেই সময় সে দৌড়াতে বের হয়। এক মাসের অভিজ্ঞতায় অ্যামি উল্লেখ করেছেন, আগের মতো ফোন ব্যবহার তার দৈনন্দিন রুটিনের অংশ নয়, এখন সে শুধুমাত্র প্রয়োজনবোধে ফোন ধরছে।
তবে সব কিশোরের অভিজ্ঞতা সমান নয়। ১৩ বছর বয়সী আহিল জানায়, সে আগের মতোই দিনে প্রায় আড়াই ঘণ্টা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করছে। ইউটিউব ও স্ন্যাপচ্যাটে ভুয়া জন্মতারিখ দিয়ে সে এখনও সক্রিয়, এবং তার বেশিরভাগ সময় কাটে রোবলক্স ও ডিসকর্ডে—যেগুলো নিষেধাজ্ঞার আওতায় নেই।
ভোক্তা মনোবিজ্ঞানী ক্রিস্টিনা অ্যান্থনি বলেন, কিছু কিশোরের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শুধু বিনোদন নয়, বরং মানসিক চাপ ও একাকিত্ব সামলানোর মাধ্যম। হঠাৎ এসব বন্ধ হলে বিরক্তি বা বিচ্ছিন্নতার অনুভূতি তৈরি হতে পারে। তাই বন্ধ বা ব্যান থাকা অ্যাপের বিকল্প খুঁজে কিশোররা হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক মেসেঞ্জার বা অন্যান্য কম পরিচিত অ্যাপের দিকে ঝুঁকছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মূল আকর্ষণ হলো সামাজিক সংযোগ। বন্ধুরা না থাকলে সেই আনন্দ ও মানসিক তৃপ্তি কমে যায়। তবে গেমিং প্ল্যাটফর্মগুলোতে মনোনিবেশ করা কিছুটা কঠিন, কারণ সবাইর কাছে প্রয়োজনীয় হার্ডওয়্যার বা দক্ষতা নেই।
অ্যামি আশা করছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সময় কম থাকলে নেতিবাচক বা ভয়ঙ্কর কনটেন্টে কম ডুবে যাবে। তার মা বলেন, এই সিদ্ধান্তের ভালো বা খারাপ প্রভাব এখনই বলা কঠিন; সময়ই প্রমাণ করবে।
সিএ/এমআর


