যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজনকে ঘিরে নতুন করে শঙ্কা তৈরি করেছে। উত্তর মিনিয়াপোলিসে অভিবাসন অভিযান চলাকালে আইসিই এজেন্টের গুলিতে রেনি গুড নিহত হওয়ার ঘটনার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এমন এক সময়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্রসহ কানাডা ও মেক্সিকো যৌথভাবে বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন আয়োজক দেশের ভেতরে সহিংসতার খবর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে।
এই ঘটনার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন লেবাননের কূটনীতিক মোহামাদ সাফা। তিনি পিভিএ প্যাট্রিয়টিক ভিশনের নির্বাহী পরিচালক, যে সংস্থাটি জাতিসংঘে পরামর্শক হিসেবে স্বীকৃত। নিজের অফিসিয়াল এক্স অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, ২০২৬ বিশ্বকাপ দেখার জন্য কেনা টিকিট তিনি বাতিল করেছেন। তার আশঙ্কা, নিজের পরিচয়ের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) তাকে ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে চিহ্নিত করতে পারে।
সাফা লেখেন, আইসিই চাইলে তাকে গ্যাং সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করতে পারে এবং সে ক্ষেত্রে কোনো অভিযোগ, শুনানি বা বিচার ছাড়াই এক বছর পর্যন্ত কারাগারে আটকে রাখা হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ, ফোন কল বা আইনি সহায়তার সুযোগও থাকবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের জন্য এখন নিরাপদ নয়।
এই মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী নীতির দিকেই ইঙ্গিত করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে এসব নীতি আরও কঠোর করা হয়েছে, যা ঘিরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগও জোরালো হয়েছে।
বিশ্বকাপ বয়কটের আহ্বান জানানোদের মধ্যে সাফা একা নন। যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে বিশ্বকাপ আয়োজনকে মিলিয়ে দেখছেন আরও অনেকে। মিনিয়াপোলিসের ঘটনার প্রতিবাদে মার্কিন গ্রিন পার্টির সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ও বামপন্থী কর্মী আজামু বারাকা বিশ্বকাপ বয়কটের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল প্রশ্ন তুলেছে যুক্তরাষ্ট্রে জননিরাপত্তার অতিরিক্ত সামরিকীকরণ নিয়ে। তাদের মতে, অভিবাসীদের আটক করতে যেসব পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে, তার অনেকগুলোরই আইনগত ভিত্তি দুর্বল এবং মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এদিকে কয়েক মাস ধরে ‘বয়কট দ্য ২০২৬ ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ’ নামের একটি ওয়েবসাইট এসব অভিযোগ ও তথ্য তুলে ধরছে। সেখানে ট্রাম্প প্রশাসনের এমন সব সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা বিশ্বকাপের শান্তি, সহাবস্থান ও সার্বজনীন চেতনার পরিপন্থী বলে দাবি করা হচ্ছে। যদিও রিপাবলিকান প্রশাসন ধারাবাহিকভাবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
সূত্র: সংশ্লিষ্ট সূত্র
সিএ/এসএ


