উৎসব বা পারিবারিক অনুষ্ঠানে অনেক আত্মীয়স্বজন একত্রিত হলে হাসি-আড্ডার মাঝেই কখনও কখনও এমন কিছু মন্তব্য শোনা যায়, যা মন খারাপ করে দেয়। খাবার, ওজন, আয়-রোজগার, সম্পর্ক, বিয়ে বা সন্তান— যে বিষয়ই হোক না কেন, এ ধরনের খোঁচা দেওয়া কথার অভিজ্ঞতা অনেকেরই পরিচিত। তাই এমন অনুষ্ঠান সবার জন্য সব সময় আনন্দের হয় না, কারণ অনেকেই আগেভাগেই অস্বস্তিকর প্রশ্ন বা দ্বন্দ্বের আশঙ্কা করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চুপ করে কষ্ট জমিয়ে রাখা বা হঠাৎ রেগে যাওয়ার বদলে শুরুতেই সীমারেখা টেনে নেওয়াই বেশি কার্যকর। পরিস্থিতিতে সীমারেখা টানা মানে ঝগড়া শুরু করা নয়, বরং নিজের প্রয়োজন স্পষ্টভাবে জানানো এবং কোন আচরণে আপনি স্বচ্ছন্দ তা বোঝানো।
সিএনএন ডটকমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাটের মনোবিজ্ঞানী ডা. রোজ্যান কাপানা-হজ বলেন, “পরিস্থিতিতে সীমারেখা টানা মানে যুদ্ধ ঘোষণা করা নয়। এটি আসলে নিজের প্রয়োজন স্পষ্ট করে বলা এবং কোন আচরণে আপনি স্বচ্ছন্দ তা জানানো।” তবে আবেগের বশে প্রতিক্রিয়া দেখানোর বদলে আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি, যাতে অস্বস্তিকর মুহূর্তে নিজের অনুভূতিকে সুরক্ষা দেওয়া যায়।
একত্র হওয়ার আগেই সম্ভাব্য সংবেদনশীল বিষয়গুলো ভেবে নেওয়ার পরামর্শ দেন যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডের রকভিলভিত্তিক প্রতিষ্ঠান দ্য ইটিং ডিজঅর্ডার সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা ও থেরাপিস্ট জেনিফার রোলিন। তিনি বলেন, “একত্র হওয়ার আগেই ভাবতে হবে কোন কথাগুলো নিজেকে আঘাত করে এবং সেগুলোর জবাবে কী বলতে হবে। আগে থেকে ঠিক করে রাখলে সেই মুহূর্তে অস্বস্তি কমে।” একই সঙ্গে নিজের লক্ষ্য ঠিক করে নেওয়ার কথাও বলেন তিনি— সব সমস্যার সমাধান এক সন্ধ্যায় হবে না, তাই প্রিয় আত্মীয়ের সঙ্গে সময় কাটানো বা শিশুদের সঙ্গে খেলাই হতে পারে সেই দিনের সাফল্য।
খাবার বা শরীর নিয়ে মন্তব্য এলে অনেকেই মানসিকভাবে আহত হন। এ ক্ষেত্রে সরাসরি জানানো যেতে পারে যে, খাবার বা শরীর নিয়ে নিজের সম্পর্ক ভালো করার চেষ্টা চলছে, তাই এ বিষয়ে কথা না বলাই স্বস্তিকর। আবার হালকা ভঙ্গিতে শরীরের প্রতি কৃতজ্ঞতার কথা বলে আলোচনাটি অন্যদিকে নেওয়াও কার্যকর হতে পারে। তবু আলোচনা থামছে না মনে হলে, নিজেকে সেই পরিবেশ থেকে সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়ার অধিকারও রয়েছে।
সম্পর্ক, বিয়ে বা সন্তান নিয়ে প্রশ্ন এলে প্রথমে প্রসঙ্গ ঘুরিয়ে নেওয়া যেতে পারে। প্রশ্ন বারবার এলে ছোট ইঙ্গিতে বোঝানো যায় যে, এই আলোচনা আর এগোতে চান না। একান্ত আলাপে স্পষ্টভাবে বলা যেতে পারে যে, কথার উদ্দেশ্য ভালো হলেও তার প্রভাব অস্বস্তিকর লাগছে। প্রয়োজনে ভবিষ্যতে কীভাবে সহায়তা পেলে ভালো লাগবে, সেটিও জানানো যেতে পারে।
রাজনীতি বা ধর্মের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে কেউ তর্কে জড়াতে চাইলে তাতে অংশ নেওয়াই একমাত্র পথ নয়। কখনও উপেক্ষা করা, কখনও প্রসঙ্গ বদলানোই শান্তির উপায় হতে পারে। দরকার হলে সংক্ষেপে জানানো যায় যে, নিজের দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা এবং এই মুহূর্তে এ নিয়ে আলোচনা করতে আগ্রহী নন।
সব চেষ্টা সত্ত্বেও যদি অস্বস্তি না কাটে, তবে পরিস্থিতি থেকে সরে যাওয়াও এক ধরনের সীমারেখা। শারীরিকভাবে কিছু সময়ের জন্য দূরে সরে যাওয়া অনেক সময় ঝগড়া ছাড়াই পরিস্থিতি সামাল দিতে সাহায্য করে। ডা. রোজ্যান কাপানা-হজ মনে করিয়ে দেন, “উৎসবের মূল কথা সংযোগ। সেই সংযোগ যদি কষ্টের হয়, তাহলে তা চালিয়ে যাওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই।”
সিএ/এমআর


