আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর জাতীয় সরকার গঠন নিয়ে আলোচনা নতুন করে শুরু হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনের পর জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে, আর বিএনপি বলছে জাতীয় ঐকমত্যের সরকার গঠনের কথা। এই প্রস্তাব দুটির মধ্যে কোনো যোগসূত্র আছে কি না বা পার্থক্য কী, তা নিয়েও রাজনৈতিক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
সম্প্রতি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের বৈঠকের পর এই আলোচনা তীব্র হয়েছে। যদিও বৈঠকে জামায়াত নেতা কোনো সুনির্দিষ্ট সরকার কাঠামো উল্লেখ করেননি, তিনি জানিয়েছেন নির্বাচনের পর সরকারের গঠন নিয়ে বিএনপির সঙ্গে আলোচনা করতে চান। তিনি বলেন, জাতির স্থিতিশীলতার স্বার্থে সকল পক্ষ মিলে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এটিকে ‘ইঙ্গিতপূর্ণ’ হিসেবে দেখছেন।
বৈঠকটি ঘটে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর একদিন পর, ১ জানুয়ারি। তখন শফিকুর রহমান গুলশানের কার্যালয়ে শোকবইতে স্বাক্ষর করতে গিয়েছিলেন। বৈঠকে জামায়াত নেতা নির্বাচনের পর সরকারের কাঠামো বা প্রস্তাব উল্লেখ না করলেও রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নির্বাচন পরবর্তী রাষ্ট্র পরিচালনায় দলের মনোভাব তুলে ধরেন।
জামায়াতের শর্ত অনুযায়ী, জাতীয় সরকার গঠনের জন্য দুর্নীতির প্রশ্রয় না দেওয়া, কঠোর দমন নীতি বজায় রাখা, বিচার বিভাগে হস্তক্ষেপ না করা এবং জুলাই আন্দোলনের প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা জরুরি। যদি তারা নির্বাচনে জয়ী হয়, এসব শর্ত মেনে সরকারের সঙ্গে যুক্ত হবে। জামায়াতের এই বক্তব্য বিএনপির দিকেই ইঙ্গিত দেয় বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
অন্যদিকে বিএনপি বলছে, তারা জাতীয় ঐকমত্যের সরকার গঠন করতে চায়। তাদের প্রস্তাবে জামায়াতকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, দল ভোটে জয়ী হলে মিত্রদের নিয়ে সরকার গঠন করবে। অন্য একটি বিএনপি নেতা উল্লেখ করেছেন, সব দল মিলে সরকার গঠিত হলে সংসদে বিরোধী দল থাকবে না, ফলে একপক্ষীয় সংসদ হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, বিএনপি ও জামায়াতের প্রকাশ্য অবস্থান থেকে জাতীয় সরকার গঠনের সম্ভাবনা কম। কারণ বিএনপি ভোটে তাদের মিত্রদের সঙ্গে আসন সমঝোতা করেছে এবং সরকার গঠনের প্রস্তাবও সেই মিত্রদের ভিত্তিতে করছে। অন্যদিকে জামায়াত তাদের শর্ত পূরণের ভিত্তিতে আলাদা শিবিরের সঙ্গে জাতীয় সরকার গঠনের কথা বলছে। দুই শিবিরই একে অপরকে বাদ দিয়েই ভোটের মাঠে রয়েছে।
বিএনপি-জামায়াতের সম্পর্ক এখন প্রকাশ্যে টানাপোড়েনপূর্ণ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচন এগোলে এই সম্পর্কের উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী সরকার কেমন হবে তা নির্বাচনের ফলাফল ও বাস্তবতার ওপর নির্ভর করবে।
সিএ/এএ


