ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বলেছেন, টানা প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলা বিক্ষোভের মুখেও ইসলামিক রিপাবলিক পিছু হটবে না। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে তিনি এই অবস্থান জানান এবং একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘পতনের’ ভবিষ্যদ্বাণী করেন। সাম্প্রতিক এই আন্দোলন দেশটির ধর্মীয় শাসনব্যবস্থাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ‘স্বৈরশাসকের মৃত্যু হোক’সহ নানা স্লোগান দিতে দিতে বিক্ষোভকারীরা প্রধান প্রধান শহরে মিছিল করেন। এ সময় সরকারি ভবনে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। আন্দোলনকারীরা প্রকাশ্যেই ধর্মতান্ত্রিক শাসনের অবসান দাবি করছেন, যা ইসলামিক রিপাবলিকের চার দশকের বেশি সময়ের ইতিহাসে অন্যতম বড় সংকট হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
ইন্টারনেট পর্যবেক্ষক সংস্থা নেটব্লকস জানিয়েছে, বিক্ষোভ দমনের চেষ্টায় কর্তৃপক্ষ ইন্টারনেট সংযোগ সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। শুক্রবার ভোরে সংস্থাটি জানায়, ব্যাপক বিক্ষোভের মধ্যে দেশটি প্রায় ১২ ঘণ্টা ধরে অফলাইনে ছিল।
৩ জানুয়ারি থেকে তীব্র হয়ে ওঠা আন্দোলন নিয়ে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া প্রথম বক্তব্যে খামেনি বিক্ষোভকারীদের ‘ভাঙচুরকারী’ ও ‘নাশকতাকারী’ বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাত ‘এক হাজারেরও বেশি ইরানির রক্তে রঞ্জিত’, যা ইসলামিক রিপাবলিকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ও যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের ইঙ্গিত বহন করে।
খামেনি বলেন, ‘অহংকারী’ মার্কিন নেতা ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের আগে ইরান শাসন করা রাজবংশের মতোই পতিত হবেন। তিনি মন্তব্য করেন, ‘ট্রাম্পের জানা উচিত, মোহাম্মদ রেজা শাহের মতো বিশ্ব স্বৈরশাসকরা তাদের অহংকারের চূড়ায় পৌঁছেই পতনের মুখে পড়েছিল। তাকেও একদিন পতন বরণ করতে হবে।’
সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে খামেনি বলেন, ‘গত রাতে তেহরানে কিছু ভাঙচুরকারী এসে নিজেদেরই একটি ভবন ধ্বংস করেছে—মার্কিন প্রেসিডেন্টকে খুশি করার জন্য।’ এ সময় উপস্থিত নারী-পুরুষরা ‘আমেরিকার মৃত্যু হোক’ স্লোগান দেন।
তিনি আরও বলেন, ‘সবাই জানে ইসলামিক রিপাবলিক অসংখ্য সম্মানিত মানুষের রক্তের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে; নাশকতাকারীদের মুখে এটি পিছু হটবে না।’
এর জবাবে ট্রাম্প বৃহস্পতিবার গভীর রাতে বলেন, ‘ওই শাসন উৎখাত করার উদ্দীপনা অবিশ্বাস্য’। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানি কর্তৃপক্ষ যদি বিক্ষোভকারীদের হত্যা করে, তাহলে ‘আমরা খুব কঠোরভাবে আঘাত হানব। আমরা প্রস্তুত।’
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও বলেন, ৮৬ বছর বয়সী খামেনি হয়তো ইরান ছাড়ার পথ খুঁজছেন। তিনি মন্তব্য করেন, ‘তিনি কোথাও যাওয়ার কথা ভাবছেন।’
সিএ/এএ


