পঞ্চগড়ে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ইলেকট্রনিক ডিভাইসসহ এক নারী পরীক্ষার্থীকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকেলে পঞ্চগড় শহরের ড. আবেদা হাফিজ গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্র থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে কেন্দ্র সচিব ওই পরীক্ষার্থীকে দায়িত্বরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের হাতে তুলে দেন। আটক পরীক্ষার্থীর বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
আটক পরীক্ষার্থীর নাম রুবিনা আক্তার (৩২)। তিনি পঞ্চগড় সদর উপজেলার কামাত কাজলদিঘী ইউনিয়নের দফাদারপাড়া এলাকার আশরাফুল ইসলামের স্ত্রী।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পঞ্চগড় জেলা শহরের ২০টি কেন্দ্রে একযোগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা বিকেল ৩টায় শুরু হয়ে চলে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। ওই সময় ড. আবেদা হাফিজ গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছিলেন রুবিনা আক্তার। পরীক্ষার সময় তার অস্বাভাবিক আচরণ লক্ষ্য করে এক পরীক্ষার্থী বিষয়টি কক্ষ পরিদর্শককে অবগত করেন।
পরে কক্ষ পরিদর্শক তাকে তল্লাশি করে তার কান থেকে একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করেন। এ সময় তাকে পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে বহিষ্কার করা হয় এবং পুলিশের সহযোগিতায় কেন্দ্র সচিবের কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে কেন্দ্র সচিব ওই নারী পরীক্ষার্থীকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে হস্তান্তর করেন।
এবার পঞ্চগড়ে ১৭১টি পদের বিপরীতে ২০টি পরীক্ষা কেন্দ্রে মোট ১০ হাজার ৮১০ জন পরীক্ষার্থী আবেদন করেন। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেন ৮ হাজার ৭৮১ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ২ হাজার ২৯ জন। জেলায় পরীক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার ছিল ৮১ দশমিক ২৩ শতাংশ।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার সভাপতি ও জেলা প্রশাসক কাজী মো. সায়েমুজ্জামান বলেন, কানে ডিভাইস ব্যবহার করে পরীক্ষা দেওয়ার সময় এক নারী পরীক্ষার্থীকে কক্ষ পরিদর্শক আটক করেন। পরে কেন্দ্র সচিব ও পুলিশের মাধ্যমে তাকে দায়িত্বরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তিনি স্বামীর সহযোগিতায় এ ধরনের ডিভাইস ব্যবহারের চেষ্টা করছিল বলে জানা গেছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। এছাড়া কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি।
সূত্র: জেলা প্রশাসন
সিএ/এএ


