যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি বিল অনুমোদন করেছেন, যার মাধ্যমে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল বা ইউরেনিয়াম কেনা দেশগুলোর ওপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত আমদানি শুল্ক আরোপ করা যেতে পারে। এই বিল পাস হলে, যুক্তরাষ্ট্র কঠোর অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নিতে পারবে সেই দেশগুলোর ওপর যারা রাশিয়ার তেল কিনে ভ্লাদিমির পুতিনের যুদ্ধযন্ত্রকে শক্তিশালী করছে।
বিলটি প্রণয়ন করা হয়েছে ইউক্রেন যুদ্ধের সমাপ্তি নিশ্চিত করতে মস্কোর ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে। বিলের আওতায় শুধু রাশিয়াই নয়, এর বাণিজ্য অংশীদার দেশগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ধরা হয়েছে, বিশেষ করে ভারত, চীন ও ব্রাজিলকে। মার্কিন রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই দ্বিপক্ষীয় নিষেধাজ্ঞা বিল অনুমোদন করেছেন। তিনি বলেন, ‘আজ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে একটি ফলপ্রসূ বৈঠকের পর তিনি দ্বিপক্ষীয় রাশিয়া ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার বিল অনুমোদন করেছেন। আমি আশা করি, আগামী সপ্তাহেই শক্তিশালী ভোট হবে।’
গ্রাহাম আরও বলেন, বিলটি সেই দেশগুলোর ওপর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে সক্ষম হবে যারা সস্তা রাশিয়ান তেল কিনে পুতিনের যুদ্ধযন্ত্রকে শক্তিশালী করছে। তিনি ভারতের উদাহরণ উল্লেখ করে বলেন, ‘ভারত যদি রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য চালাতে থাকে, আমেরিকা দ্রুত শুল্ক বাড়াতে পারে।’
প্রস্তাবিত বিল অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতিকে নিম্নলিখিত শর্তের অধীনে দেশ বা ব্যক্তির ওপর বিধি-নিষেধ আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হবে—
১. ইউক্রেনের সঙ্গে শান্তিচুক্তি আলোচনা করতে অস্বীকার করা
২. আলোচিত শান্তিচুক্তি লঙ্ঘন করা
৩. ইউক্রেনে নতুন কোনো আগ্রাসন শুরু করা
৪. ইউক্রেন সরকারের অপসারণ, ধ্বংস বা তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা
ভারতের ওপর প্রভাব ইতিমধ্যেই পড়েছে। আগস্ট ২০২৫ সালে ট্রাম্প ভারতের পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছিলেন। এর আগে ‘লিবারেশন ডে’ বাণিজ্য পদক্ষেপে ভারতের ওপর আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল। ফলে বর্তমানে ভারতের ওপর মোট শুল্ক ৫০ শতাংশ, যা ব্রাজিলের সমান এবং বিশ্বের সর্বোচ্চ শুল্কের দেশগুলোর মধ্যে ভারতের অবস্থান নিশ্চিত করেছে।
প্রস্তাবিত বিল পাস হলে, ট্রাম্পকে বাধ্য করা হবে রাশিয়ার তেল বা ইউরেনিয়াম পণ্য বাণিজ্যে লিপ্ত দেশগুলোর আমদানি করা সব পণ্যের ওপর অন্তত ৫০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করতে।
সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস, এনডিটিভি
সিএ/এএ


