প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদমর্যাদা) অধ্যাপক আলী রীয়াজ শুক্রবার বলেছেন, ‘বাংলাদেশ যাতে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থায় আর ফিরে না যায়, সে জন্যই এবারের গণভোট।’ তিনি এই মন্তব্য করেন কৃষি বিভাগের ১৭ হাজার কর্মকর্তা ও মাঠকর্মীর জন্য জুম অনলাইন প্ল্যাটফর্মে আয়োজিত এক সভায়, যেখানে গণভোট বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার। কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এবং আওতাধীন সব দপ্তর-সংস্থার কর্মকর্তা ও মাঠকর্মীরা ভার্চুয়ালি সভায় অংশ নেন।
অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, গণভোটের এই সুযোগ আগামী ৫ বছর বা ১০ বছরে আর আসবে না। ভবিষ্যতের বাংলাদেশ কিভাবে পরিচালিত হবে, তা ঠিক করার এই সুযোগকে কাজে লাগাতে সকলকে একত্রিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের যে কয়েকটি মন্ত্রণালয় উপজেলা-ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায়ে জনবল রেখেছে, তার মধ্যে কৃষি মন্ত্রণালয় অন্যতম। জনগণের সঙ্গে আপনারা যে যোগাযোগ রাখেন, তার মাধ্যমে গণভোট বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে।
তিনি গণভোট-সংক্রান্ত জনসচেতনতামূলক প্রচারণা নিয়ে মন্তব্য করে বলেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান ও বিগত ১৬ বছরের সংগ্রামে হাজারো মানুষ প্রাণ দিয়েছেন। তারা প্রাণ দিয়ে আমাদের দায়িত্ব দিয়েছেন যেন আমরা আগের সেই অবস্থায় ফিরে না যাই। তিনি কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘গণভোটকে মানুষের কাছে সহজ ভাষায় উপস্থাপন করুন। বিষয়টি সহজবোধ্য করতে গণভোটকে হ্যাঁ-না ভোট হিসেবে উপস্থাপন করুন। পাশাপাশি গণভোটের ফলে কী পরিবর্তন আসবে, তা সময় নিয়ে মানুষকে বোঝান।’
সভায় বিশেষ অতিথি মনির হায়দার বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ, সুন্দর ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ আমরা দেখতে চাই। গত ৫৪ বছরে এই সাধারণ আকাঙ্ক্ষা পূরণে খুব বেশি অগ্রগতি হয়নি। বিগত ১৬ বছরের শাসন ও জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বোঝা গেছে যে, শাসন ও সাংবিধানিক ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন। ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা যেন পুনরায় ফিরে না আসে, তা নিশ্চিত করতে সকলকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে গণভোটে অংশ নিতে হবে।
এ সময় তিনি গণভোট বিষয়ে জনমত সৃষ্টির জন্য প্রস্তুতকৃত লিফলেটের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি কর্মকর্তাদের সামনে তুলে ধরেন। সভায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব জানান, জনগণকে সচেতন করতে মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো ড্রপ-ডাউন ব্যানার স্থাপন, নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় লিফলেট প্রস্তুত ও বিতরণ, কৃষি তথ্য সার্ভিসের মোবাইল ভ্যান ও আঞ্চলিক রেডিও সেন্টার থেকে প্রচার, প্রকল্প এলাকায় সভা-সমাবেশ আয়োজন এবং কৃষি বিভাগের ২৪/৭ হটলাইন সার্ভিসের মাধ্যমে গণভোট বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করবে।
সিএ/এএ


