পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাস একসময় ছিল জলাভূমি। অধিগ্রহণের পর বালু দিয়ে ভরাট করে বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি হলেও, বালুর কারণে গাছ রোপণ ও বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়েছিল। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিশেষ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু করে ক্যাম্পাসকে সবুজ প্রাঙ্গণে পরিণত করার উদ্যোগ নেন।
গত মে মাস থেকে শুরু হওয়া কর্মসূচিতে নান্দনিক পরিকল্পনায় রোপণ করা হয়েছে ফলদ, বনজ, ঔষধি ও শোভা বৃদ্ধিকারী ২৫০ প্রজাতির ১২০০ গাছের চারা। মাত্র আট মাসের মধ্যে পুরো ক্যাম্পাসে নতুন সবুজ রূপ ফুটে উঠেছে, যা শিক্ষার্থীদের জন্য শান্তি ও প্রাকৃতিক পরিবেশের সুর তৈরি করছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ–উপাচার্য অধ্যাপক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “ক্যাম্পাসে গাছ রোপণের মূল উদ্দেশ্য সবুজায়ন, সৌন্দর্যবর্ধন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ। এখানে পাখি আসবে, শিক্ষার্থীরা ফল খাবে, ফুল দেখবে, সবুজ ছায়ায় বসবে এবং গাছ নিয়ে গবেষণায় মনোনিবেশ করবে।”
বৃক্ষরোপণ কমিটি ক্যাম্পাসের মাটি পরীক্ষা করে, ৩০ একর ক্যাম্পাসকে ১২০০টি জোনে ভাগ করে, বালু সরিয়ে গোবর ও দোঁআশ মাটি মিশিয়ে চারা রোপণ করেছে। চারা সংগ্রহ করা হয়েছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে, যেমন মিরপুর, চট্টগ্রাম, খুলনা, বান্দরবান, টাঙ্গাইল, সাভার ও নাটোর।
রোপিত গাছের মধ্যে রয়েছে দুর্লভ প্রজাতির ধুপ, উরি আম, মধুমাধবী, হাপরমালী, কানাইডিঙ্গা, বাঁশপাতা, নাগলিঙ্গম, রক্তন, চিকরাশি, বোলা, তমাল, নাইচিচা উদাল, বৈলাম, পুন্নাগ, কুসুম, কুরচি, মুচকুন্দ চাঁপা, পালাম, রক্তরাগ, করঞ্জ, পরশপিপুল, কৃঞ্চ বট, পলকজুঁই, বুদ্ধনারকেল, নীল অঞ্জন, রয়না, রিঠা, কুম্ভী, আঁশফল ও পুত্রঞ্জীব।
শিক্ষার্থী হোসাইন আহমেদ বলেন, “রোপিত চারাগুলো আমাদের স্বপ্ন, সম্ভাবনা ও অগ্রযাত্রার প্রতীক। এগুলো আমাদের পরিচর্যা, দায়িত্ববোধ ও মননশীলতা শেখাবে।”
উপাচার্য এস এম আবদুল আওয়াল জানিয়েছেন, “কংক্রিটের পাশাপাশি ক্যাম্পাস সবুজ রাখাই আমাদের লক্ষ্য। এটি শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বাড়াবে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কমাতে সহায়তা করবে। আশা করি, এই ক্যাম্পাসের আলো পুরো বাংলাদেশ আলোকিত করবে।”
ছবিতে দেখা যাচ্ছে, আট মাস আগে রোপণ করা চারাগুলো দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং পুরো ক্যাম্পাসকে নান্দনিক সবুজ প্রাঙ্গণে রূপান্তরিত করছে।
সিএ/এসএ


