দক্ষিণ আফ্রিকা চীন, রাশিয়া ও ইরানের যুদ্ধজাহাজ নিয়ে যৌথ সামরিক মহড়ার আয়োজন করেছে, যা দেশটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও বাড়িয়েছে।
এই মহড়া চলবে ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত এবং এর কেন্দ্রস্থল কেপ উপদ্বীপের সাইমনস টাউন নৌঘাঁটি। মহড়ার নেতৃত্ব দিচ্ছে চীন, যেখানে ব্রিকসের প্রাক্তন সদস্য দেশগুলো এবং সম্প্রতি যুক্ত হওয়া নতুন সদস্য দেশগুলো অংশ নিচ্ছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষ থেকে ইরানকে সরাসরি অংশগ্রহণ না করে পর্যবেক্ষক হিসেবে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, যৌথ সামুদ্রিক নিরাপত্তা কার্যক্রম, সমন্বিত নৌ-মহড়া এবং সমুদ্র সুরক্ষাবিষয়ক প্রশিক্ষণই মহড়ার মূল উদ্দেশ্য। তবে বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন তুলেছেন, ব্রিকস প্লাস মূলত একটি অর্থনৈতিক জোট। কেন এর সদস্যরা সামরিক মহড়ায় অংশ নিচ্ছে, তা নিয়ে বিশ্লেষকরা সন্দিহান।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ডিন উইংরিন মনে করেন, ‘ব্রিকস প্লাসে এমন দেশও রয়েছে, যারা রাজনৈতিকভাবে পরস্পরের বিরোধী এবং সীমান্তে উত্তপ্ত সংঘর্ষের ইতিহাস রয়েছে।’ ২০১৯ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ নৌ-মহড়ায় অংশ নিলেও তখন সামরিক উত্তেজনা তেমন বৃদ্ধি পায়নি। তবে ২০২৩ সালে ‘মোসি-২’ মহড়া ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার অভিযানের সময় অনুষ্ঠিত হওয়ায় সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছিল।
দক্ষিণ আফ্রিকা ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তলানিতে নেমেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের সময় দক্ষিণ আফ্রিকাকে শুল্ক আরোপ ও সহায়তা বন্ধ করে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী আচরণের অভিযোগ আনা হয়েছিল। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক আদালতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর ‘জাতিগত নিধনের’ মামলায় দক্ষিণ আফ্রিকার ভূমিকা যুক্তরাষ্ট্রকে অসন্তুষ্ট করেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মহড়ায় অংশ নেওয়া দক্ষিণ আফ্রিকা বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করছে। তবে দেশটির উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী বান্তু হলোমিসা মনে করেন, শক্তিশালী দেশগুলোর সঙ্গে অনুশীলন দেশের সেনাদের জন্য সম্মানজনক এবং মনোবল বাড়াবে। ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্সের সমালোচনা হলো, মহড়া দেশের নিরপেক্ষ নীতি ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বহন করছে।

অর্থনৈতিক দিক থেকেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। অধ্যাপক উইলিয়াম গুমেদে জানিয়েছেন, দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক অপরিহার্য। যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলো দেশের পাঁচ লাখের বেশি কর্মসংস্থান তৈরি করেছে, যেখানে চীনের অবদান ১০ থেকে ২০ হাজারের মধ্যে সীমিত। তবে সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চীন ২০২৪ সালে প্রায় ৪ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে।
সিএ/এসএ


