উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইরান। রোববার (৬ এপ্রিল) সংঘটিত এসব হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন এবং কুয়েতের বিভিন্ন বেসামরিক ও জ্বালানি স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো নিরাপত্তা জোরদার করেছে এবং ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ চলছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটির উত্তর-পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত রুয়াইস ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটির একটি পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় হামলার পর আগুন লেগে যায়। তাদের দাবি, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে কিছু ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করলেও সেগুলোর ধ্বংসাবশেষ পড়ে ‘বোরুজ’ পেট্রোকেমিক্যাল প্ল্যান্টের একাধিক স্থানে আগুন ধরে। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের জন্য কারখানাটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে এবং কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
এর আগে আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, তারা বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে হামলার প্রকৃত মাত্রা ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার হয়নি।
অন্যদিকে বাহরাইনের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি সংস্থা জানিয়েছে, রোববার ভোরে একটি ড্রোন হামলায় তাদের একটি তেল সংরক্ষণাগারে আগুন লাগে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি অনুযায়ী, বাপকো এনার্জিসের একটি ট্যাংকে এই আগুন ধরে এবং পরে তা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। কর্তৃপক্ষ বলেছে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হচ্ছে, তবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে কুয়েতের বিদ্যুৎ ও পানিবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানায়, হামলার ফলে তাদের দুটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র এবং একটি পানি শোধনাগার প্ল্যান্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে দুটি বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিট বন্ধ হয়ে গেছে এবং অবকাঠামোগত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দেশটির গুরুত্বপূর্ণ এসব স্থাপনা আঞ্চলিক জ্বালানি ও পানির সরবরাহ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান থেকে আসা ক্রমবর্ধমান হুমকির কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলের পানি শোধন কেন্দ্রগুলো এখন ঝুঁকির মুখে পড়েছে। কারণ এসব দেশ তাদের পানির চাহিদার বড় অংশই শোধনাগারের মাধ্যমে পূরণ করে। ফলে এ ধরনের হামলা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও জনজীবনে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
সিএ/এএ


