রোববার (৭ ডিসেম্বর) ইরানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, ভূপাতিত হওয়া মার্কিন যুদ্ধবিমানের এক ক্রু সদস্যকে উদ্ধারের জন্য পরিচালিত অভিযান ব্যর্থ হয়েছে। একই সঙ্গে তারা জানায়, ওই অভিযানের সময় তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা তিনটি মার্কিন বিমান ধ্বংস করা হয়েছে।
ইরানের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড ‘খাতাম আল-আম্বিয়া’ জানিয়েছে, ইসফাহানের দক্ষিণাঞ্চলে অনুপ্রবেশকারী শত্রুপক্ষের তিনটি বিমান ভূপাতিত করা হয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, দুটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার এবং একটি সি-১৩০ সামরিক পরিবহন বিমান ধ্বংস হয় এবং সেগুলো এখন আগুনে জ্বলছে।
ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, মার্কিন বাহিনীর এই উদ্ধার অভিযান সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। একই ঘটনায় ইরানি গণমাধ্যম মরুভূমি এলাকায় ছড়িয়ে থাকা ধ্বংসাবশেষ ও ধোঁয়ার ছবি প্রকাশ করেছে, যা থেকে সংঘর্ষের তীব্রতা বোঝা যাচ্ছে।
এর আগে, গত শুক্রবার ইরানের ভেতরে একটি অভিযানে মার্কিন এফ-১৫ই যুদ্ধবিমানের দুই ক্রু নিখোঁজ হন। যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে একজন ক্রুকে উদ্ধার করার দাবি জানায় এবং পরে রোববার দ্বিতীয় ক্রুকেও উদ্ধারের কথা জানায়। তবে ইরান এই দাবিকে প্রত্যাখ্যান করে তাদের অভিযান ব্যর্থ হয়েছে বলে জানায়।
ইরানি গণমাধ্যমের তথ্যমতে, দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানে উদ্ধার অভিযান চলাকালে হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। তবে নিহতদের পরিচয় তারা বেসামরিক না সামরিক—তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ গালিবাফও ধ্বংসাবশেষের ছবি প্রকাশ করে বিষয়টি সামনে আনেন। বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন বিমান ধ্বংসের দাবি তুলে ইরান এটিকে বড় ধরনের সাফল্য হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষার দুর্বলতার দাবির জবাব দিচ্ছে।
আলজাজিরার সাংবাদিক তৌহিদ আসাদি বলেন, এ ঘটনার মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে এবং পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে। তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আগামী সময়ের মধ্যে ইরানের অবকাঠামোতে বড় ধরনের হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছে, যা সংঘাতকে আরও তীব্র করতে পারে।
সিএ/এএ


