রোববার (৭ ডিসেম্বর) ইরানে বিধ্বস্ত হওয়া মার্কিন ফাইটার জেটের নিখোঁজ এক ক্রুকে জীবিত উদ্ধারের দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানান, বিশেষ তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযানের মাধ্যমে ওই সেনাসদস্যকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এ ঘটনার বিস্তারিত নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে মার্কিন গণমাধ্যম ফক্স নিউজ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া ওই ক্রু একজন ‘ওয়েপনস সিস্টেম অফিসার’, যাকে ‘কর্নেল’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফক্স নিউজের পেন্টাগন প্রতিনিধি জেনিফার গ্রিফিন জানান, গত শুক্রবার ভোরে দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানে একটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল বিমান হামলার শিকার হলে পাইলটের সঙ্গে ওই কর্মকর্তা প্যারাসুটে নেমে পড়েন। পরে তিনি পাহাড়ি এলাকায় কয়েক হাজার ফুট উঁচু স্থানে উঠে আত্মগোপনে চলে যান এবং টানা ৪৮ ঘণ্টা সেখানে লুকিয়ে ছিলেন।
নিজের অবস্থান জানাতে তিনি একটি এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ ব্যবস্থা বা বিশেষ বিকন সংকেত সক্রিয় করেন, যা মার্কিন বাহিনীকে উদ্ধার অভিযানে সহায়তা করে। এরপর কয়েকশ মার্কিন সেনাসদস্য নিয়ে বড় পরিসরের উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়, যেখানে বিভিন্ন বাহিনীর বিশেষ ইউনিট ও যুদ্ধবিমান অংশ নেয়।
একজন ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে জানানো হয়, অভিযানের সময় মার্কিন ও ইরানি বাহিনীর মধ্যে সরাসরি কোনো সংঘর্ষ হয়নি। তবে উদ্ধারস্থল থেকে ইরানি সেনাদের দূরে রাখতে মার্কিন বাহিনী গুলিবর্ষণ করে। এ সময় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীও আকাশ প্রতিরক্ষা দিয়ে সহায়তা করে, যাতে উদ্ধারকারী দল নিরাপদে কাজ করতে পারে।
ফক্স নিউজ আরও জানায়, মূল অভিযান শুরুর আগে সিআইএ ইরানের ভেতরে বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা চালায়। এতে বলা হয়, নিখোঁজ সেনাসদস্যকে ইতোমধ্যে খুঁজে পাওয়া গেছে এবং তাকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এই বিভ্রান্তির মধ্যে সিআইএ বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রকৃত অবস্থান শনাক্ত করে এবং তাৎক্ষণিকভাবে পেন্টাগন ও হোয়াইট হাউসকে জানায়। পরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড অভিযান পরিচালনা করে সফলভাবে উদ্ধার সম্পন্ন করে।
অভিযানের সময় একটি সি-১৩০ হারকিউলিস বিমান কারিগরি জটিলতায় কাদায় আটকে পড়লে সেটি ধ্বংস করে দেওয়া হয়, যাতে শত্রুপক্ষের হাতে না পড়ে। উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া সেনাদের নিরাপদে ফেরাতে অতিরিক্ত বিমান পাঠানো হয়।
জেনিফার গ্রিফিন এই ঘটনাকে ‘খড়ের গাদায় সুঁচ খোঁজা’র মতো উল্লেখ করে বলেন, ‘এটি পুরোপুরি সিনেমার গল্পের মতো। যখন এই অভিযানের পুরো কাহিনী সামনে আসবে, আমি মনে করি আমরা সবাই স্তম্ভিত হয়ে যাব।’
অন্যদিকে, রোববার ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, নিখোঁজ পাইলটকে খোঁজার কাজে নিয়োজিত একটি মার্কিন বিমান তারা ধ্বংস করেছে। দেশটির আধাসরকারি তাসনিম নিউজ সংস্থা এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
সিএ/এএ


