মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাবে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দক্ষিণ কোরিয়া জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানি এবং যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আটকে পড়া কোরিয়ান নাগরিকদের দেশে ফেরানোর জন্য বিশেষ ফ্লাইট চালু করা হচ্ছে।
শুক্রবার (৬ মার্চ) প্রেসিডেন্সিয়াল চিফ অব স্টাফ কাং হুন-সিক এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, দক্ষিণ কোরিয়া জরুরি ভিত্তিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ছয় মিলিয়নেরও বেশি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল সংগ্রহ করবে, যা দেশের দৈনিক তেল ব্যবহারের দ্বিগুণেরও বেশি। তিনি বলেন, “এই জরুরি তেল আমদানি কেবল জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতেই নয়, সাম্প্রতিক যুদ্ধের কারণে অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়া তেলের দাম নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক হবে।”
কাং হুন-সিক আরও জানান, “আমাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যেমন আমিরাতের নিরাপত্তা রক্ষা করছে, তেমনি আমিরাতের তেল দক্ষিণ কোরিয়ার জ্বালানি নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রায় ৭০ শতাংশ তেল হরমুজ প্রণালী হয়ে আসে।”
দক্ষিণ কোরিয়া সরকার জানিয়েছে, দুইটি কোরিয়ান পতাকাবাহী তেলবাহী জাহাজ বিকল্প আমিরাতের একটি বন্দরে নোঙর করবে, যেখানে প্রায় ৪ মিলিয়ন ব্যারেল তেল সংরক্ষিত থাকবে। এরপর তা দ্রুত দেশটিতে পাঠানো হবে। প্রয়োজনে আমিরাত থেকে কোরিয়ায় সংরক্ষিত যৌথ তেল মজুদ থেকে আরও ২ মিলিয়ন ব্যারেল সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে প্রায় ২০৮ দিনের সমপরিমাণ তেলের মজুদ রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী প্রায় সাত মাসের চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম। ফলে স্বল্পমেয়াদে বড় ধরনের জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা নেই।
এদিকে যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে আটকে পড়া কোরিয়ান নাগরিকদের দেশে ফেরানোও শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়লে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আকাশসীমা আংশিকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। সীমিত আকারে বাণিজ্যিক ফ্লাইট বৃহস্পতিবার রাত থেকে পুনরায় চালু হয় এবং প্রথম ফ্লাইটে ৩৭২ জন দক্ষিণ কোরিয়ান নাগরিককে ইনচন আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে পৌঁছে দেওয়া হয়। শনিবার থেকে আবুধাবি থেকেও ফ্লাইট চালু হবে, প্রয়োজনে অতিরিক্ত চার্টার ফ্লাইটও পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের ১৪টি দেশে প্রায় ১৮ হাজার দক্ষিণ কোরিয়ান রয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ জন সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারে আটকে ছিলেন। প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং মন্ত্রিসভা বৈঠকে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
সিএ/এসএ


