নেপালে বহুল প্রতীক্ষিত সাধারণ নির্বাচনের ভোট গণনা চলতে থাকায় প্রাথমিক ফলাফলে এগিয়ে রয়েছে তরুণদের নেতৃত্বাধীন রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি)। এখন পর্যন্ত গণনায় দলটি ১১০টি আসনে এগিয়ে থাকায় বড় ধরনের জয় পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।
গত বছর দেশটিতে জেন-জি আন্দোলনের মাধ্যমে সরকার পতনের পর প্রথমবারের মতো জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় গত বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ)। রাজনৈতিক অস্থিরতা, হতাশা এবং পরিবর্তনের প্রত্যাশা নিয়ে লাখো ভোটার এ নির্বাচনে অংশ নেন।
দেশটির প্রায় এক কোটি ১৩ লাখ ভোটার নতুন সরকার নির্বাচনের জন্য ভোট দিয়েছেন। ২৭৫ সদস্যের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস গঠনের লক্ষ্যে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ১৬৫টি আসনে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে এবং বাকি ১১০টি আসনে পার্টি তালিকার ভিত্তিতে প্রতিনিধিত্ব নির্ধারণ করা হচ্ছে।
নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি, কাঠমান্ডুর মেয়র ও সাবেক র্যাপার বালেন্দ্র শাহ এবং নেপালের প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল নেপালি কংগ্রেসের নতুন নেতা গগন থাপা।
শুক্রবার (৬ মার্চ) সন্ধ্যায় স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্ট জানায়, প্রাথমিক গণনায় আরএসপি ১১০টি আসনে এগিয়ে রয়েছে এবং ইতোমধ্যে ৩টি আসনে জয় নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে নেপালের প্রাচীন রাজনৈতিক দল নেপালি কংগ্রেস ১০টি আসনে এগিয়ে এবং ২টি আসনে জয় পেয়েছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলির দল কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল (ইউএমএল) ১১টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। পাশাপাশি নেপালি কমিউনিস্ট পার্টি ৮টি আসনে, শ্রম সংস্কৃতি পার্টি ৪টি আসনে এবং রাষ্ট্রীয় প্রজাতন্ত্র পার্টি ও জনতা সমাজবাদী পার্টি-নেপাল একটি করে আসনে এগিয়ে আছে।
এছাড়া দুইজন স্বতন্ত্র প্রার্থীও নিজ নিজ আসনে এগিয়ে রয়েছেন। এখনও বেশ কয়েকটি আসনের ভোট গণনা চলমান রয়েছে। সব আসনের গণনা শেষ হলে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করবে নেপালের নির্বাচন কমিশন।
চূড়ান্তভাবে আরএসপি সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী হলে দেশটির প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন ৩৫ বছর বয়সি তরুণ নেতা বালেন্দ্র শাহ। একসময় র্যাপ বা হিপহপ সংগীতের সঙ্গে যুক্ত থাকা এই নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কাঠমান্ডুর মেয়র নির্বাচিত হয়ে আগে থেকেই আলোচনায় ছিলেন।
সিএ/এসএ


