ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার প্রথম ১০০ ঘণ্টায় প্রায় ৩.৭ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে খরচ হয়েছে প্রায় ৮৯১.৪ মিলিয়ন ডলার। এই তথ্য জানিয়েছে ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংক ট্যাংক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস)। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পেট হেগসেথ ইঙ্গিত দিয়েছেন, সামরিক অভিযান কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে।
সিএসআইএস জানিয়েছে, যুদ্ধ চালিয়ে যেতে বর্তমান বাজেটের চেয়ে বেশি অর্থের প্রয়োজন হবে প্রতিরক্ষা বিভাগের। বিমান হামলার প্রথম ধাপে উন্নত ও জটিল অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহারের কারণে খরচ বেশি হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্র কম খরচের গোলাবারুদ ব্যবহার শুরু করলে কিছুটা খরচ কমবে। তবুও বাজেটের বাইরে অতিরিক্ত খরচ আসবে, যা অভ্যন্তরীণ বাজেট কাটছাঁটের মাধ্যমে মেটানো রাজনৈতিক ও কার্যত কঠিন হতে পারে।
আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত চারদিনে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ২০০ কোটি ডলারের সামরিক সরঞ্জাম হারিয়েছে। সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতে থাকা এএন/এফপিএস-১৩২ প্রারম্ভিক সতর্কতা রাডার ব্যবস্থায়। এর মূল্য প্রায় ১.১ বিলিয়ন ডলার। শনিবার ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে কাতার নিশ্চিত করেছে।
রোববার কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভুলবশত গুলিতে তিনটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে। ছয়জন ক্রু সদস্য বেঁচে গেলেও বিমানগুলো রক্ষা পায়নি। এগুলোর পুনঃপ্রতিস্থাপনে আনুমানিক ২৮২ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হবে।
শনিবার প্রথম দফার হামলায় ইরান বাহরাইনের মানামায় অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তরে আঘাত হানে। এতে দুটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ টার্মিনাল ও কয়েকটি বড় ভবন ধ্বংস হয়। এ টার্মিনালগুলোর আনুমানিক মূল্য ২০ মিলিয়ন ডলার।
ইরান দাবি করেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-রুওয়াইস শিল্পনগরে মোতায়েন থাকা ‘থাড অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক মিসাইল’ ব্যবস্থার এএন/টিপিওয়াই-২ রাডার তারা ধ্বংস করেছে। এই রাডারের খরচ প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার। সব মিলিয়ে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১.৯০২ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা শুরুর পর থেকে অন্তত সাতটি মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠেছে। এসব স্থাপনায় আছে বাহরাইনের পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তর, কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজান, আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি ও ক্যাম্প বুয়েরিং, ইরাকের এরবিল ঘাঁটি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলি বন্দর এবং কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটি।
কুয়েতে রোববার তোলা ছবিতে দেখা যায়, আগের দিনের ইরানি হামলার পর আলি আল সালেম বিমানঘাঁটির ছাদের অংশ ধসে গেছে। ক্যাম্প আরিফজানে ছয় মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। ক্যাম্প বুয়েরিংয়ে ড্রোন হামলার ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ড্রোন ঘাঁটির ওপর দিয়ে উড়ে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, এই মুহূর্তে ইরানে সেনা পাঠানো ‘সময়ের অপচয়’ হবে। বৃহস্পতিবার এনবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘এটা সময়ের অপচয়। তারা সবকিছু হারিয়েছে। তাদের নৌবাহিনীও হারিয়েছে। তারা যা হারাতে পারে, সব হারিয়েছে।’
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলি স্থল হামলার জন্য ইরান প্রস্তুত। ট্রাম্প এটিকে ‘অযথা মন্তব্য’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এছাড়া তিনি ইরানি নেতৃত্ব কাঠামোকে পরিবর্তন করতে চাওয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আমরা চাই তাদের একজন ভালো নেতা থাকুক। আমাদের কিছু লোক আছে যারা আমার মনে হয় ভালো কাজ করবে।’
সিএ/এএ


