ইরানে সামরিক হামলা হবে কি না, তা নিয়ে ক্রমবর্ধমান দ্বিধায় রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। বিষয়টি নিয়ে তিনি হতাশ হয়ে উঠছেন বলে মঙ্গলবার সিবিএস নিউজ একাধিক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে। উপদেষ্টারা তাকে সতর্ক করেছেন যে ইরানে যেকোনো ধরনের হামলা কাঙ্ক্ষিত ফল নাও বয়ে আনতে পারে, বরং পুরো অঞ্চলে বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তেহরানকে পারমাণবিক চুক্তির শর্ত মানাতে চাপ দিতে সীমিত সামরিক হামলার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেছেন ট্রাম্প। তবে ইরান যদি এতে সাড়া না দেয়, তাহলে সেই হামলা আরও বড় মাত্রার সামরিক অভিযানে রূপ নিতে পারে—এমনকি শাসন পরিবর্তনের লক্ষ্যে আঘাত হানার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
মঙ্গলবার প্রকাশিত ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক বিশ্লেষণে এক ইসরাইলি গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে এই অঞ্চলে দুটি বিমানবাহী রণতরীসহ উল্লেখযোগ্য সামরিক শক্তি মোতায়েন করেছে। কিন্তু তার মতে, ইরানে উচ্চমাত্রার বিমান হামলা চালানোর সর্বোচ্চ সক্ষমতা চার থেকে পাঁচ দিন। কম মাত্রার অভিযান হলে তা প্রায় এক সপ্তাহ চলতে পারে। ইসরাইলের আশঙ্কা, সীমিত হামলার পথ বেছে নিলে ইরান আরও সাহসী হয়ে কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে, কারণ তেহরান আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো আঘাতের জবাব তারা কঠোর সামরিক শক্তি দিয়ে দেবে।
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানে হামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে ট্রাম্প অনেকাংশেই নির্ভর করবেন তার দুই ঘনিষ্ঠ আলোচক—স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের মতামতের ওপর। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইরান সত্যিই কি পারমাণবিক চুক্তিতে আগ্রহী, নাকি সময়ক্ষেপণ করছে—এই দুই প্রতিনিধি তা নিবিড়ভাবে মূল্যায়ন করবেন।
ওয়াশিংটন সন্দেহ করছে, তেহরান পরমাণু সক্ষমতা ত্যাগের বিষয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিলম্ব করছে। আগামী বৃহস্পতিবার জেনেভায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে, যা সংকট নিরসনে ‘শেষ চেষ্টা’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে চলতি সপ্তাহেই ইরান তাদের সর্বশেষ প্রস্তাব পাঠাবে বলে জানানো হয়েছে, এবং সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন।
সিএ/এসএ


