ইসরাইল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান হুমকির পটভূমিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিজের উত্তরাধিকার নিয়ে সতর্ক পরিকল্পনা শুরু করেছেন বলে জানিয়েছে The New York Times। রোববার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের চাপ বাড়ায় এবং তেহরানকে লক্ষ্য করে সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় তিনি দেশের নেতৃত্ব ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ রদবদলের পথে হাঁটছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জানুয়ারিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ যখন তীব্র আকার ধারণ করে, তখন খামেনি তার দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র আলী লারিজানিকে দেশটির ‘ডি ফ্যাক্টো’ বা কার্যত নেতা হিসেবে দায়িত্ব দেন। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক চাপ বাড়ায় তিনি আশঙ্কা করছেন যে ভবিষ্যতে ইসরাইল বা আমেরিকার হামলার একেবারে প্রথম লক্ষ্য হতে পারেন তিনি নিজেই।
এদিকে গত সপ্তাহে সম্ভাব্য মার্কিন হামলার সতর্কতা প্রকাশ পাওয়ার পরই এই নতুন তথ্য সামনে আসে। রয়টার্সকে দুই মার্কিন কর্মকর্তা জানান, তেহরানের ওপর হামলার অংশ হিসেবে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। যদিও কারা সরাসরি লক্ষ্য হতে পারেন তা তারা প্রকাশ করেননি।
আলী লারিজানি ইরানি রাজনীতিতে বহুদিন ধরে একটি প্রভাবশালী নাম। বিপ্লবী গার্ডের সাবেক কমান্ডার এবং অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন খামেনির ঘনিষ্ঠ মহলের সদস্য। বর্তমানে তিনি ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি। দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই তিনি কার্যত দেশটির মূল নীতিনির্ধারণে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করছেন। সাম্প্রতিক বিক্ষোভ দমনে তার ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য।
প্রতিবেদন বলছে, জানুয়ারিতে বিক্ষোভ তীব্রতার সাথে বাড়তে থাকায় খামেনি রাশিয়া, কাতার, ওমানের মতো আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় এবং পারমাণবিক ইস্যুতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার তদারকি করার দায়িত্বও লারিজানির ওপর দেন। আইআরজিসি ও সরকারের সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধের হুমকির মধ্যে লারিজানি জরুরি বিকল্প পরিকল্পনাও প্রস্তুত করছেন।
ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানায়, খামেনি দেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও সরকারি পদে চার-স্তরীয় উত্তরাধিকার পরিকল্পনা তৈরি করেছেন। প্রতিটি পদে সর্বোচ্চ চারজন পর্যন্ত উত্তরসূরি মনোনীত আছেন। এমনকি নিজের ওপর হামলায় নিহত হওয়ার মতো পরিস্থিতিতে কারা সিদ্ধান্ত নেবে তাও তিনি নির্ধারণ করে রেখেছেন।
তবে খামেনির উত্তরাধিকার এখনো ইরানের অভ্যন্তরে বিতর্কিত একটি বিষয়। যদিও লারিজানি অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব, তিনি একজন জ্যেষ্ঠ শিয়া ধর্মগুরু নন— যা সর্বোচ্চ নেতার পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে বিবেচিত হয়। তবুও তাকে খামেনির সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ এবং আস্থাভাজন হিসেবে দেখা হয়।
সূত্র: দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস
সিএ/এসএ


