মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সম্ভাব্য সংঘাতের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন—এমন উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীরাই। তারা মনে করছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ভোটারদের প্রধান উদ্বেগ অর্থনীতি হলেও প্রশাসনের মনোযোগ ক্রমেই বৈদেশিক উত্তেজনার দিকে সরে যাচ্ছে, যা রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সামরিক শক্তি মোতায়েন এবং ইরানের ওপর সম্ভাব্য বিমান হামলার প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে কেন এমন কঠোর অবস্থান নেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে মার্কিন জনগণের কাছে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ১৯৭৯ সালের ইরানি বিপ্লবের পর এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে আক্রমণাত্মক পদক্ষেপগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বছরেই ট্রাম্প প্রশাসনের বৈদেশিক নীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে ইরান ইস্যু। এর ফলে জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি ও কর্মসংস্থানের মতো অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলো আড়ালে পড়ে যাচ্ছে—যেগুলো সাধারণ ভোটারদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
হোয়াইট হাউসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কড়া বক্তব্য থাকলেও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপে প্রশাসনের ভেতরে এখনো পূর্ণ ঐকমত্য নেই। বিশেষ করে ‘সিদ্ধান্তহীন ভোটারদের’ কাছে বিভ্রান্তিকর বার্তা পৌঁছানোর আশঙ্কায় অনেকেই অর্থনীতিকেই অগ্রাধিকার দিতে বলছেন।
এদিকে রিপাবলিকান প্রচারণা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও চান, নির্বাচনের আগে প্রশাসন অর্থনৈতিক ইস্যুগুলোকে সামনে রাখুক। একটি ব্যক্তিগত ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদের কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হলেও সেখানে ট্রাম্প উপস্থিত ছিলেন না বলে জানা গেছে।
আগামী নভেম্বরের নির্বাচন নির্ধারণ করবে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ রিপাবলিকানদের হাতে থাকবে কিনা। বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা যদি কোনো একটি কক্ষেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়, তবে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট মেয়াদের শেষভাগে নীতি বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
রিপাবলিকান কৌশলবিদ রব গডফ্রের মতে, ইরানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত শুধু সামরিক নয়, রাজনৈতিকভাবেও বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং তা ক্ষমতাসীনদের নির্বাচনী অবস্থান দুর্বল করে দিতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স
সিএ/এসএ


