যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেও নিকট ভবিষ্যতে সরাসরি যুদ্ধের কোনো ঝুঁকি নেই বলে জানিয়েছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। তিনি বলেছেন, সাম্প্রতিক আলোচনা দুই পক্ষের মধ্যে নতুন একটি ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করেছে এবং সৃজনশীল কূটনীতির মাধ্যমে পরিস্থিতি সমাধান সম্ভব। তাঁর মতে, ইরানে হামলা চালিয়ে রেজিম পরিবর্তনের আশা বাস্তবসম্মত নয়।
তুরস্কের সংবাদমাধ্যম ডেইলি সাবাহ জানায়, ওমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিরল আলোচনার পর আঙ্কারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ফিদানের ভাষায়, দীর্ঘ বিরতির পর যোগাযোগ পুনরায় শুরু হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ উভয় পক্ষই ইস্যুটি সমাধানে আগ্রহী। তিনি বলেন, অন্তত এই মুহূর্তে তাৎক্ষণিক যুদ্ধের কোনো হুমকি নেই।
ফিদান বলেন, ইরান প্রসঙ্গটি তুরস্কের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং অঞ্চল আরেকটি যুদ্ধ সহ্য করার অবস্থায় নেই। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানও বিষয়টিতে ঘনিষ্ঠ দৃষ্টি রাখছেন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি আলোচনার বিস্তারিত সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কাছে তুলে ধরেছেন বলেও জানান তিনি।
তুরস্ক মনে করে, ইরানের পারমাণবিক ইস্যুতে সমাধান বের হলে আঞ্চলিক অন্যান্য জটিলতা নিয়েও অগ্রগতি সম্ভব হবে। ফিদানের ব্যাখ্যা—পারমাণবিক সংকট যুক্তরাষ্ট্র ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত হলেও অন্য ইস্যুগুলো মূলত আঞ্চলিক। তিনি বলেন, যেখানে শত্রুতা থাকে, সেখানে উভয় পক্ষই বিকল্প পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নেয়; যুক্তরাষ্ট্রের নৌবহর মোতায়েন ও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা বৃদ্ধির ঘোষণাও সে বাস্তবতা নির্দেশ করে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় ইরানের সরকার পরিবর্তন সম্ভব কি না—এমন প্রশ্নে ফিদান স্পষ্টভাবে বলেন, বিমান হামলার মাধ্যমে কোনো দেশের সরকার পরিবর্তন হয় না। তাঁর ভাষায়, ইরানে রেজিম পরিবর্তনের ধারণা অবাস্তব, বরং বাস্তবে যা ঘটতে পারে তা হলো জনসাধারণের প্রয়োজনীয় সেবা প্রদানে ব্যর্থ হলে সরকার দুর্বল হয়ে পড়তে পারে এবং নেতৃত্ব বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তনে বাধ্য হতে পারে।
ফিদান আরও বলেন, ইরানের নেতৃত্ব এখনো ১৯৭৯ সালের বিপ্লব-পরবর্তী মানসিকতা দিয়ে দেশ পরিচালনা করছে, যা কাঠামোগত জটিলতা তৈরি করছে। তিনি দাবি করেন, ইরান পারমাণবিক বোমা তৈরি করছে না, তবে সক্ষমতার খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণই মূল উদ্বেগের জায়গা।
তিনি স্মরণ করেন, অতীতে আলোচনার মধ্যেই ইরানে হামলা হয়েছিল। জুন মাসের ১২ দিনের যুদ্ধে আলোচনার সময়ই যুক্তরাষ্ট্র আঙ্কারাকে সতর্ক করেছিল যে যেকোনো মুহূর্তে বড় কিছু ঘটতে পারে। তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে এবং তুরস্ক সম্ভাব্য বিপর্যয় ঠেকাতে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তুরস্ক প্রস্তাব দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সরাসরি মুখোমুখি বৈঠকে বসুক, তবে ইরান ওমানে ব্যবহৃত মধ্যস্থতাকারীভিত্তিক পদ্ধতি বজায় রাখতে চেয়েছে। আঙ্কারা সেই সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়েছে।
ফিদান জানান, ইরান এখন বড় অস্তিত্বগত চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। ফেব্রুয়ারির শুরুতে তুরস্ক কাতার, সৌদি আরব, মিসর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে আলোচনা করেছে, এবং এসব দেশ এই ইস্যুতে গভীর আগ্রহ দেখিয়েছে।
সূত্র: ডেইলি সাবাহ
সিএ/এসএ


