গাজার যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ শুরু হওয়া সত্ত্বেও ইসরাইলি হামলা থামেনি। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ভোর থেকে উপত্যকার উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলে একের পর এক অভিযান চালানো হয়, যার ফলে শিশু ও স্বাস্থ্যকর্মীসহ অন্তত ২৩ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
অবরুদ্ধ গাজার বিভিন্ন এলাকায়, যেমন দেইর এল-বালাহ, খান ইউনিস এবং গাজা সিটির তুফাহ ও জেইতুন, ভয়াবহ হামলা চালানো হয়। ইসরাইলি বাহিনীর অভিযানে নারী ও শিশুদের পাশাপাশি বহু বেসামরিক মানুষও নিহত ও আহত হয়েছেন।
তেল আবিব দাবি করেছে, উপত্যকার দক্ষিণাঞ্চলে হামলায় হামাসের একজন সদস্য নিহত হয়েছেন। উত্তরাঞ্চলে ইসরাইলি সেনাদের লক্ষ্য করে হামলার জবাবে হামাসের অবস্থান লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয় বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে হামাস এই হামলাকে যুদ্ধবিরতির স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে। সংগঠনটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “ইসরাইল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে শান্তি প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে অজুহাত খুঁজছে।” অন্যদিকে, ইসরাইল দাবি করেছে, হামাসই প্রথমে হামলা চালিয়ে যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করেছে।
ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র আল জাজিরা জানিয়েছেন, ‘ইয়েলো লাইন’-এর ভেতরেও ইসরাইলি বাহিনী হামলা চালাচ্ছে। ওই অঞ্চলে বহু বেসামরিক মানুষ হামলার শিকার হচ্ছেন এবং অনেকে নিখোঁজ হয়েছেন।
এদিকে, রাফাহ ক্রসিং দিয়ে গুরুতর অসুস্থ ও আহতদের বিদেশে পাঠানোর পরিকল্পনা বাতিল করেছে ইসরাইল। ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, আল-আমাল হাসপাতাল থেকে রোগীদের তৃতীয় দলকে স্থানান্তরের সমন্বয় করতে গিয়েও ইসরাইল কোনো কারণ ছাড়াই পরিকল্পনা বাতিল করেছে।
গাজার এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে, কায়রোতে মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি-র সঙ্গে বৈঠক করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান। যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এরদোয়ান জানান, গাজায় শান্তি ফেরাতে এবং মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে আঙ্কারা ও কায়রো একসাথে কাজ করবে।
সিএ/এসএ


