ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বাণিজ্য চুক্তিটি আগামী মার্চের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে স্বাক্ষরিত হবে বলে জানিয়েছেন ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। বৃহস্পতিবার (৫ জানুয়ারি) এই তথ্য জানান তিনি, যা দু’দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করবে।
এই চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ভারতের সঙ্গে পারস্পরিক শুল্ক হার ১৮ শতাংশে কমিয়ে আনবে এবং ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ রাখবে। একই সময়, ভারত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৫০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের জ্বালানি ও প্রযুক্তি পণ্য ক্রয়ের প্রতিশ্রুতি পাবে, যা দুই দেশের বাণিজ্যিক টেকসইতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
পীযূষ গোয়েল বলেন, এই বিষয়ে পাঁচ দিনের মধ্যে একটি যৌথ বিবৃতি জারি করা হবে, যদিও এতে কী অন্তর্ভুক্ত থাকবে তা তিনি নির্দিষ্ট করেননি।
এর আগে সোমবার রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে চুক্তির ঘোষণা দেন। তিনি জানান, এটি দুই দেশের মধ্যে বৃহত্তর বাণিজ্যিক সহযোগিতার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং চুক্তির ফলে ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ৫০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে।
তবে বুধবার ট্রাম্প চুক্তির ঘোষণা দিয়েই নানা প্রশ্ন ও সমালোচনা উঠে আসে। বিরোধীরা চুক্তির বাস্তবায়নের তারিখ, তেলের বিকল্প উৎসসহ বিভিন্ন বিষয়ে স্পষ্টতা না থাকাকে দ্রুত নৈতিকভাবে প্রশ্ন করেছেন। ট্র্যাকিং সংস্থা কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ভারত ২০২৫ সালে প্রায় ২ কোটি ১০ লক্ষ ব্যারেল তেল আমদানি করেছিল।
চুক্তির বিরোধিতায় বিরোধীদল প্রায়ই সংসদীয় কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে, যার ফলে গতকাল বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে পীযূষ গোয়েলের ভাষণও বাধাগ্রস্ত হয়। পরপর মন্তব্যে গোয়েল এই চুক্তি দেশীয় উৎপাদনকে উৎসাহিত করবে এবং স্থবির অবস্থিত এমএসএমই খাতে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন।
চুক্তির স্বাক্ষর আগামী মার্চের মাঝামাঝি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা ক্ষেত্রের জন্য এটি একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সিএ/এসএ


