যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিসে এক টাউন হল সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় হামলার শিকার হয়েছেন কংগ্রেস প্রতিনিধি ইলহান ওমর। সভায় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন পুলিশ ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) বিলুপ্ত করার আহ্বান জানাচ্ছিলেন। এ সময় এক হামলাকারী তাঁর দিকে অজ্ঞাত তরল পদার্থ স্প্রে করে হামলা চালায়।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল–জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, গত মঙ্গলবার এই হামলার ঘটনা ঘটে। তবে এতে ইলহান ওমর শারীরিকভাবে আহত হননি। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, কর্তৃপক্ষ হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করেছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে থার্ড-ডিগ্রি লাঞ্ছনা বা শারীরিক হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে স্প্রে করা তরলটি কী ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
সি-স্প্যানের ভিডিওতে হামলার সংক্ষিপ্ত দৃশ্য ধরা পড়ে। সেখানে দেখা যায়, ওমর যখন আইসিই বিলুপ্তির দাবি জানাচ্ছিলেন এবং মার্কিন স্বরাষ্ট্র বিভাগের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোমের পদত্যাগ দাবি করছিলেন, তখন এক ব্যক্তি হঠাৎ দৌড়ে তাঁর পোডিয়ামের দিকে এগিয়ে যান।
হামলার কয়েক সেকেন্ড আগে ইলহান ওমর বলেন, ‘আইসিই সংস্কার করা সম্ভব নয়। একে সংশোধন করা যাবে না, আমাদের চিরতরে আইসিই বিলুপ্ত করতে হবে এবং ডিএইচএস সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোমকে অবশ্যই পদত্যাগ করতে হবে, না হলে তাঁকে অভিশংসনের মুখোমুখি হতে হবে।’
ভিডিওতে আরও দেখা যায়, হামলাকারী একটি সিরিঞ্জ দিয়ে কালচে রঙের তরল স্প্রে করেন এবং তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনাকে অবশ্যই পদত্যাগ করতে হবে।’ নিরাপত্তা কর্মকর্তারা সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে ধরে মাটিতে ফেলে দেন। এ সময় উপস্থিত দর্শকেরা উল্লাস প্রকাশ করেন এবং ওমরের আশপাশে থাকা লোকজনকে বিস্মিত হয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে দেখা যায়। একজন দর্শককে বলতে শোনা যায়, ‘হায় খোদা, সে তাঁর গায়ে কিছু একটা স্প্রে করেছে।’
ঘটনার পর ইলহান ওমর সমর্থকদের জানান, তিনি ‘ভালো’ আছেন। তবে সভায় উপস্থিত কয়েকজন বলেন, স্প্রে করা তরল থেকে ‘ভয়াবহ’ দুর্গন্ধ আসছিল এবং তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা উচিত। পরে পোডিয়ামে ফিরে আবারও নোমের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে দর্শকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বাস্তবতা হলো এই কুৎসিত লোকটির মতো মানুষেরা বোঝে না যে—আমরা মিনেসোটাবাসী শক্তিশালী এবং আমাদের দিকে তারা যা-ই ছুড়ে মারুক না কেন, আমরা অবিচল থাকব।’
অনুষ্ঠান শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ওমর লেখেন, ‘আমি ঠিক আছি। আমি একজন সারভাইভার, তাই এই সামান্য আন্দোলনকারী আমাকে আমার কাজ করা থেকে ভয় দেখাতে পারবে না। আমি গুন্ডাদের জিততে দিই না। আমার অসাধারণ নির্বাচকমণ্ডলীর প্রতি কৃতজ্ঞ যারা আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন। মিনেসোটা অনেক শক্তিশালী।’
সোমালি বংশোদ্ভূত আমেরিকান ইলহান ওমর গাজায় ইসরায়েলের নির্বিচার যুদ্ধের বিরোধিতা এবং অভিবাসন সংস্কারের পক্ষে অবস্থানের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন রক্ষণশীলদের সমালোচনার মুখে। তিনি ‘অপারেশন মেট্রো সার্জ’-এরও প্রকাশ্য বিরোধী। গত ডিসেম্বরে মিনিয়াপোলিসে নথিভুক্তহীন অভিবাসীদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে আইসিই এই অভিযান শুরু করে। এ মাসে মিনিয়াপোলিসের বাসিন্দাদের সঙ্গে আইসিই ও কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার পেট্রোল এজেন্টদের সংঘর্ষে দুই মার্কিন নাগরিক নিহত হন। তাঁদের একজন ৩৭ বছর বয়সী আইসিইউ নার্স অ্যালেক্স প্রেটি, যিনি গত শনিবার নিহত হন।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইলহান ওমরের কড়া সমালোচক। গত মাসে তিনি তাঁকে ‘আবর্জনা’ বলে অভিহিত করেন এবং সোমালি-আমেরিকান সম্প্রদায়ের সঙ্গে জড়িত একটি কথিত দুর্নীতি কেলেঙ্কারির প্রসঙ্গে তাঁর আর্থিক বিষয় তদন্তের কথা বলেন। ২০১৮ সালে ইলহান ওমর প্রথম দুই মুসলিম নারীর একজন হিসেবে মার্কিন কংগ্রেসে নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েন। ২০২৪ সালে তিনি তৃতীয় মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হন এবং মিনেসোটার পঞ্চম নির্বাচনী জেলার প্রতিনিধিত্ব করছেন।
সূত্র: আল–জাজিরা, রয়টার্স
সিএ/এসএ


