কলকাতার আনন্দপুরের নাজিরাবাদ এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের প্রায় ১৯ ঘণ্টা পার হলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাত পর্যন্ত দুটি বিশাল গুদামে ধিকিধিকি করে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানি ও নিখোঁজের আশঙ্কা বাড়ছে, যার ফলে পুরো এলাকা জুড়ে চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
সোমবার রাত ৯টা নাগাদ ঘটনাস্থল থেকে সাতটি দগ্ধ দেহাংশ উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে উদ্ধার করা হয়েছিল আরও তিনটি দেহ, যা পুড়ে কঙ্কালসার হয়ে গেছে। তবে মোট কতজনের মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া দেহাংশগুলো মানুষের কি না, তা নিশ্চিত করতে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য নমুনা পাঠানো হয়েছে। ভিসেরা রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ও পরিচয় সম্পর্কে নির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া যাবে না বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ৩টার দিকে ওই গুদাম দুটিতে আগুন লাগে। গুদাম দুটি একটি নামী মোমো প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের বলে জানা গেছে। সেখানে কোমল পানীয় ও শুকনো খাবারের প্যাকেট মজুত ছিল। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, রাতে একাধিক শ্রমিক গুদামের ভেতরে ঘুমিয়ে ছিলেন। আগুন লাগার সময় তারা ভেতরেই আটকে পড়েন, যার ফলে হতাহতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আগুন নিয়ন্ত্রণে দমকল বাহিনীর ১২টি ইঞ্জিন কাজ করে। দমকল ও পুলিশকে দীর্ঘ সময় ধরে আগুনের সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে। তবে সোমবার রাত পর্যন্ত আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।
অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে এখন পর্যন্ত ২০টি পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়েছে। নিখোঁজদের বেশিরভাগই ওই গুদামে কর্মরত শ্রমিক বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের ভাগ্য সম্পর্কে প্রশাসন এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেনি।
বারুইপুর থানার পুলিশ জানিয়েছে, পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হলো, গুদামে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল কি না এবং রাতে শ্রমিকরা কেন ভেতরে অবস্থান করছিলেন—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনাস্থলে রাজ্য সরকারের একাধিক প্রতিনিধি ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উপস্থিত হয়েছেন। দমকলমন্ত্রী জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডের কারণ নির্ধারণে তদন্ত চলছে এবং প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে এই অগ্নিকাণ্ডকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলো প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগ তুললেও রাজ্য সরকার তা প্রত্যাখ্যান করেছে। আনন্দপুরের এই দুর্ঘটনাকে সাম্প্রতিক সময়ে কলকাতার অন্যতম ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। মৃত ও নিখোঁজের সঠিক সংখ্যা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি, তদন্তের অগ্রগতির দিকেই তাকিয়ে আছেন প্রশাসন ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
সিএ/এসএ


