রাশিয়া থেকে তেল আমদানিকারক দেশগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর শুল্ক আরোপের পর ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করেছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। রাশিয়ান তেল কেনার কারণে ভারতীয় পণ্যের ওপর মোট ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রেক্ষাপটেই নয়াদিল্লি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
স্থানীয় সময় বুধবার ২১ জানুয়ারি ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্কট বেসেন্ট বলেন, ইউক্রেন সংঘাত শুরুর পর ভারত রাশিয়ান তেল কেনা শুরু করেছিল। তবে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ভারতের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করার পর দেশটি মস্কো থেকে তেল কেনা বন্ধ করে দিয়েছে।
বেসেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়া থেকে তেল কেনা দেশগুলোর পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরই ভারত রুশ তেল আমদানি বন্ধ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে ভারতীয় পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। পরে রাশিয়া থেকে তেল কেনার ‘শাস্তি’ হিসেবে আরও অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়।
এর আগে গত বছরের আগস্টে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার দায়ে ভারতীয় পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। যদিও এই সিদ্ধান্তকে নয়াদিল্লি বরাবরই ‘অন্যায় ও অযৌক্তিক’ বলে দাবি করে আসছে। ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিশাল জনগোষ্ঠীর জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই তারা রাশিয়ার কাছ থেকে তেল সংগ্রহ করছে।
এদিকে সম্প্রতি রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে ভারতসহ আরও কয়েকটি দেশের ওপর ৫০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের একটি বিলে সম্মতি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। রিপাবলিকান পার্টির সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম জানিয়েছেন, শিগগিরই এই সংক্রান্ত বিলটি মার্কিন আইনসভায় পেশ করা হবে।
এই বিল প্রসঙ্গে স্কট বেসেন্ট বলেন, এটি সিনেটর গ্রাহামের উত্থাপিত একটি প্রস্তাব, যা বর্তমানে সিনেটে বিবেচনাধীন রয়েছে। তিনি বলেন, এটি পাস হয় কি না তা সময়ই বলে দেবে। তবে তাদের বিশ্বাস, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এ ধরনের ক্ষমতার জন্য আলাদা অনুমোদনের প্রয়োজন নেই।
সূত্র: দ্য হিন্দু
সিএ/এসএ


