ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে লক্ষ্য করে কোনো ধরনের হামলা হলে তা ইরানের বিরুদ্ধে ‘পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ ঘোষণার শামিল’ হবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
স্থানীয় সময় রোববার (১৮ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ওপর যেকোনো হামলা ইরানের অস্তিত্বের বিরুদ্ধে সরাসরি আঘাত হিসেবে বিবেচিত হবে। তাঁর ভাষায়, এমন পদক্ষেপ ইরানের বিরুদ্ধে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর সমান।
একই বার্তায় তিনি ইরানে চলমান সহিংস বিক্ষোভের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের শত্রুতা ও নিষেধাজ্ঞাকে দায়ী করেন। পেজেশকিয়ান বলেন, ইরানিদের জীবনে বর্তমানে যে আর্থিক সংকট, মূল্যস্ফীতি ও দুরবস্থা দেখা দিয়েছে, তার অন্যতম প্রধান কারণ হলো মার্কিন সরকার ও তাদের মিত্রদের আরোপ করা দীর্ঘমেয়াদি ও অমানবিক নিষেধাজ্ঞা।
এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইরানের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানে নতুন নেতৃত্ব খোঁজার সময় এসেছে।’ মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, দমন-পীড়ন ও সহিংসতার ওপর নির্ভর করেই ইরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠী টিকে আছে।
ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানের শাসকরা ক্ষমতায় থাকার জন্য হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করছে এবং পুরো দেশকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তাঁর মতে, দেশ পরিচালনার পরিবর্তে ক্ষমতা আঁকড়ে রাখাই বর্তমান নেতৃত্বের প্রধান লক্ষ্য।
এদিকে ইরানে ডিসেম্বরের শেষ দিকে মূল্যস্ফীতি, মুদ্রার দরপতন ও অর্থনৈতিক সংকট থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দ্রুত সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। বিক্ষোভ দমনে প্রশাসন ইন্টারনেট ও ফোন সংযোগ বন্ধ করে দেয়। পর্যবেক্ষণ সংস্থা নেটব্লকস জানিয়েছে, রোববার কিছু অনলাইন সেবায় আংশিকভাবে প্রবেশাধিকার ফিরেছে।
ইরানজুড়ে চলমান এই বিক্ষোভে অন্তত ৫ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির একজন কর্মকর্তা। নিহতদের মধ্যে প্রায় ৫০০ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। তাঁর দাবি অনুযায়ী, সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়েছে উত্তর-পশ্চিম ইরানের কুর্দিশ অধ্যুষিত অঞ্চলে। ওই কর্মকর্তা আরও দাবি করেন, ইসরাইল ও বিদেশি বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের সহায়তা ও অস্ত্র দিয়েছে।
এর আগে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিজেও বিক্ষোভে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন এবং এর জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে দায়ী করেন।
এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, গত সপ্তাহে ইরানে সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে মার্কিন সেনারা ডোনাল্ড ট্রাম্পের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় ছিলেন। তবে ইসরাইল ও আরব মিত্রদের চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন ট্রাম্প।
সূত্র: রয়টার্স
সিএ/এসএ


