মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ভেনেজুয়েলার তেল বা অর্থ আর কিউবায় যাবে না। তিনি কিউবার নেতৃত্বকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করার পরামর্শ দিয়েছেন। এই ঘোষণায় দীর্ঘদিনের মার্কিন-কিউবা বিরোধ আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ভেনেজুয়েলা কিউবার বৃহত্তম তেল সরবরাহকারী। শিপিং তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারির শুরুতে মার্কিন বাহিনী ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর থেকে কোনো পণ্যবাহী জাহাজ কারাকাস থেকে ক্যারিবিয়ান দেশগুলোতে যায়নি।
কারাকাস এবং ওয়াশিংটন ইতিমধ্যে ৫০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল সরবরাহের জন্য ২ বিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে এগিয়েছে। অর্থ মার্কিন ট্রেজারি-তত্ত্বাবধানে জমা হবে, যা ট্রাম্প এবং ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সম্পর্কের একটি বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন, “কিউবায় আর তেল বা টাকা যাবে না – শূন্য! আমি দৃঢ়ভাবে তাদের একটি চুক্তি করার পরামর্শ দিচ্ছি, খুব দেরি হওয়ার আগেই।” তিনি আরও বলেন, “কিউবা বহু বছর ধরে ভেনেজুয়েলা থেকে আসা বিপুল পরিমাণ তেল ও অর্থের উপর নির্ভর করে বেঁচে ছিল।”
প্রতিক্রিয়ায় কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল ডিয়াজ-ক্যানেল বলেছেন, “কিউবার উপর চুক্তি চাপানোর কোনো নৈতিক অধিকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেই। কিউবা একটি স্বাধীন, স্বতন্ত্র এবং সার্বভৌম জাতি। আমরা কী করি তা কেউ নির্দেশ দেয় না।” তিনি আরও বলেন, “কিউবা আক্রমণ করে না; এটি ৬৬ বছর ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণ প্রতিরোধ করছে এবং মাতৃভূমি রক্ষার জন্য প্রস্তুত।”
ট্রাম্প বিস্তারিতভাবে চুক্তির প্রস্তাবনা ব্যাখ্যা করেননি। তবে তার মন্তব্য আঞ্চলিক শক্তিগুলোর ওপর মার্কিন প্রভাব বিস্তার এবং পশ্চিম গোলার্ধে আধিপত্য বিস্তার লক্ষ্যকে প্রকাশ করছে।
সূত্র: আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত


