ইরানে চলমান তীব্র সরকারবিরোধী আন্দোলনের মাঝে নতুনভাবে আলোচনায় উঠে এসেছেন নির্বাসিত রেজা পাহলভি। দীর্ঘ ১৩ দিন ধরে চলা বিক্ষোভে তেহরান থেকে শুরু করে ধর্মীয় নগরী কোম পর্যন্ত উজ্জ্বল হচ্ছে স্লোগান— ‘পাহলভি ফিরে আসবেন’।
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর মাত্র ১৭ বছর বয়সে দেশত্যাগী রেজা পাহলভি আজ প্রবাসে বসে আন্দোলনের সবচেয়ে পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন। তবে ৪৬ বছর পর তার রাজকীয় প্রত্যাবর্তন কতটা সম্ভব, নাকি এটি শুধু একটি নস্টালজিয়ার প্রতিফলন— তা নিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে জোরালো আলোচনা চলছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ তুঙ্গে। বিক্ষোভকারীরা রাজপথে ‘জাভিদ শাহ’ (রাজা দীর্ঘজীবী হোক) স্লোগান উচ্চারণ করছেন। এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়েছে যে খামেনি রাশিয়ায় পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন এবং সরকারি কর্মকর্তারা পরিবারের জন্য ফরাসি ভিসা প্রক্রিয়া তদারকি করছেন। এই প্রেক্ষাপটে রেজা পাহলভি নিরাপত্তা বাহিনীকে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, প্রবাসী সমর্থন আর বাস্তবে শাসন ক্ষমতা গ্রহণ দুটি ভিন্ন বিষয়। বর্তমান প্রজন্মের ইরানিরা রাজতন্ত্রে ফিরে যাবে নাকি একটি ধর্মনিরপেক্ষ গণতন্ত্রের দিকে ঝুঁকবে, তা এখনও অনিশ্চিত। পাহলভির জনসমর্থন নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কেউ দাবি করছেন, তার সমর্থন ৮০ শতাংশের উপরে, আবার জার্মান ভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ‘গামান’ বলছে এটি প্রায় ৩৫ শতাংশ। যদিও ৩৫ শতাংশ সমর্থন যেকোনো রাজনৈতিক নেতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ, দীর্ঘ সময়ের মধ্যে তিনি কেন বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতন ঘটাতে পারেননি, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও রহস্যময় অবস্থানে রয়েছেন। ট্রাম্প ইরানি জনগণের প্রতি সমর্থন জানালেও এবং পাহলভিকে ‘ভালো মানুষ’ বলেছেন, তার সাথে সরাসরি দেখা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি মনে করেন, পরিবর্তনের পর কে নেতা হিসেবে আবির্ভূত হবেন তা পরিস্থিতির ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত।
রেজা পাহলভি নিজেকে একটি ঐক্যবদ্ধ পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরছেন। তিনি বারবার বলেছেন, পরিবর্তন ইরানের ভেতর থেকেই আসতে হবে এবং বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপের বিরোধী।
তবে খামেনি প্রশাসনের পতন ঘটলেও দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এবং বাসিজ মিলিশিয়াদের মতো শক্তিশালী কাঠামো পাহলভির প্রত্যাবর্তনকে সহজভাবে গ্রহণ করবে কি না, তা নিয়ে সংশয় আছে। শেষ পর্যন্ত পাহলভি কি কেবল স্মৃতির নাম হয়ে থাকবেন নাকি ভবিষ্যতের সমাধান হিসেবে ফিরে আসবেন, তা নির্ভর করছে রাজপথের লড়াই ও বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতির মোড় পরিবর্তনের ওপর।
সিএ/এসএ


