ইরানের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে বিদ্বেষমূলক ও আগ্রাসী বক্তব্য দেওয়া হলে সেটিকে দেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে সতর্ক করেছেন ইরানের সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি। এমন আচরণ অব্যাহত থাকলে কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, আগ্রাসী আচরণকারীদের ‘হাত কেটে ফেলা হবে’।
সেনাবাহিনীর কমান্ড ও স্টাফ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮৬তম কোর্সের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে এসব কথা বলেন ইরানের সেনাপ্রধান। তিনি স্পষ্ট করে জানান, শত্রুপক্ষের যেকোনো ভুল পদক্ষেপের জবাব আগের চেয়ে আরও কঠোর হবে। তার ভাষায়, ‘শত্রুপক্ষের যেকোনো ভুল পদক্ষেপের আরও কঠোর জবাব দেয়া হবে। কেউ আগ্রাসী আচরণ করলে তার হাত কেটে দেয়া হবে।’
বর্তমানে উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রভাবে ইরানের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ চলছে। এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন আমির হাতামি। তিনি বলেন, এই বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে অনেকটা ‘ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের’ চেষ্টা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে ইরানের জনগণ সেই ফাঁদে পা দেয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
হাতামির মতে, ইরানের জনগণ প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়েছে এবং দাঙ্গাবাজদের থেকে নিজেদের আলাদা রেখেছে। তিনি বলেন, ‘জনগণ প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়েছে। দাঙ্গাবাজদের থেকে নিজেদের আলাদা রেখেছে এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কাঙ্ক্ষিত এজেন্ডার সঙ্গে একাত্ম হতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।’
ভাষণে তিনি ‘অপারেশন আল-আকসা স্টর্ম’-এর পর যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের একটি বক্তব্যও স্মরণ করিয়ে দেন। তার মতে, ওই বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট হয় কেন যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলি শাসনব্যবস্থার অপরাধ সত্ত্বেও তাদের সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। পশ্চিমা শক্তির কাছে ইসরায়েল একটি কৌশলগত ঘাঁটি হিসেবে কাজ করে বলেই তাদের কাছে এর অস্তিত্ব গুরুত্বপূর্ণ।
ইরানের সেনাপ্রধান আরও বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো আগ্রাসনের পরিণতি হবে সুদূরপ্রসারী। দেশের স্বাধীনতা, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা রক্ষায় সেনাবাহিনী পূর্ণ শক্তি প্রয়োগ করতে প্রস্তুত রয়েছে বলেও তিনি সাফ জানিয়ে দেন।
সিএ/এসএ


