ইরানে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, মুদ্রার দরপতন ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে চলমান বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের দমন-পীড়ন না চালাতে নিরাপত্তা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। তবে একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন—যারা অস্ত্র হাতে সহিংসতা বা নাশকতায় জড়াবে, তাদের ‘দাঙ্গাবাজ’ হিসেবে বিবেচনা করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ব্রিটিশ দৈনিক দ্য ডন জানায়, দেশটির বিভিন্ন শহরে মূল্যবৃদ্ধি ও মুদ্রার পতনজনিত সংকটে বিক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করার মধ্যেই প্রেসিডেন্টের এই নির্দেশনা আসে। নরওয়েভভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআর) দাবি করেছে, ২৮ ডিসেম্বর তেহরানে দোকানদারদের ধর্মঘট দিয়ে শুরু হওয়া আন্দোলনে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৭ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন।
অন্যদিকে ইরানি কর্তৃপক্ষের বরাতে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বিক্ষোভে এ পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যও রয়েছেন; মঙ্গলবার গুলিতে এক পুলিশ সদস্য নিহত হন। বুধবার মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ জাফর ঘায়েমপানাহ বলেন, প্রেসিডেন্টের নির্দেশ অনুযায়ী বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না।
তিনি আরও বলেন, ‘যারা আগ্নেয়াস্ত্র, ছুরি বা ধারালো অস্ত্র নিয়ে পুলিশ স্টেশন ও সামরিক স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে, তারা দাঙ্গাবাজ। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারী ও দাঙ্গাবাজদের আলাদা করে চিহ্নিত করতে হবে।’
এদিকে ইরানের সেনাপ্রধান জেনারেল আমির হাতামি সতর্ক করে বলেছেন, দেশের বিরুদ্ধে বাইরের যে কোনো হুমকির জবাব কঠোরভাবে দেওয়া হবে। ফার্স নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, তিনি বলেন—শত্রুপক্ষ কোনো ভুল করলে ইরানের প্রতিক্রিয়া গত জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের সময়ের তুলনায় আরও শক্তিশালী হবে।
চলমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা হলে যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করতে পারে। একই সময়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ইরানি জনগণের স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের দাবির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন।
বার্তাসংস্থা এএফপি জানায়, ২০০৯ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের পরের আন্দোলন কিংবা ২০২২–২৩ সালের বিক্ষোভের মতো বড় আকার না নিলেও অর্থনৈতিক এই আন্দোলন আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
উল্লেখ্য, গত জুনে ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনায় ইসরায়েলের নজিরবিহীন হামলার মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়; সে সময় যুক্তরাষ্ট্রও স্বল্প সময়ের জন্য অভিযানে অংশ নেয় এবং ইরানের তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়।
সিএ/এসএ


