মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলের লক্ষ্যে সামরিক অভিযানসহ বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা করছেন বলে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে। এর প্রেক্ষিতে ডেনমার্ক সতর্ক করেছে, এ ধরনের পদক্ষেপ ন্যাটোর সমাপ্তি ডেকে আনতে পারে।
ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদ থেকেই গ্রিনল্যান্ডের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করে আসছেন। এবার তিনি চাইছেন সামরিকভাবে বা চাপ প্রয়োগ করে হলেও গ্রিনল্যান্ড দখল করতে। তার প্রশাসনের দাবি, ‘গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ করা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অগ্রাধিকার’। যদিও আগে থেকেই গ্রিনল্যান্ডে একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে।
গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত গুরুত্ব অপরিসীম। শত শত বছর ধরে গ্রিনল্যান্ড ড্যানিশ রাজ্যের উপনিবেশ ছিল এবং ১৯৫৩ সালে তা রাজ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে গ্রিনল্যান্ডের অবস্থান উত্তর আমেরিকার প্রতিরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গ্রিনল্যান্ড কানাডার উত্তর-পূর্ব উপকূলের বাইরে অবস্থিত এবং এর দুই-তৃতীয়াংশের বেশি এলাকা আর্কটিক বৃত্তের মধ্যে পড়েছে।
গ্রিনল্যান্ড জিআইইউ গ্যাপের একটি অংশ রক্ষা করে—যেখানে ন্যাটো রাশিয়ার নৌ-চলাচল পর্যবেক্ষণ করে। এছাড়া এখানে বিরল মাটির খনিজ এবং সমুদ্র উপকূলে সম্ভাব্য তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস মজু আছে। এ ধরনের সম্পদ কম্পিউটার, স্মার্টফোন, ব্যাটারি, সৌর ও বায়ু প্রযুক্তি উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়।
ন্যাটো বা উত্তর আটলান্টিক চুক্তি সংস্থা মূলত উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে একটি সামরিক জোট। এটি সদস্য দেশগুলোকে একে অপরের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দেয়। জোটের মূলনীতি হলো অনুচ্ছেদ ৫, যেখানে বলা হয়েছে, ‘একজনের ওপর হামলা সবার ওপর হামলা’। তবে এটি মূলত জোটের বাইরের কোনো শক্তির হামলার জন্য প্রযোজ্য।
যদি কোনো সদস্য দেশ অন্য সদস্যকে হামলা করে, তা হলে ন্যাটোর স্পষ্ট নীতিমালা নেই। তবে তৎকালীন অভিজ্ঞতা অনুযায়ী ন্যাটো সম্ভবত হামলাকারী দেশকে চিহ্নিত করে আক্রান্ত দেশকে রক্ষা করবে। অতীতের উদাহরণ হিসেবে গ্রিস ও তুরস্কের সংঘাত উল্লেখযোগ্য, যেখানে ন্যাটো সরাসরি কোন পক্ষের সঙ্গে দাঁড়ায়নি।
গ্রিনল্যান্ডের ক্ষেত্রে এই পদক্ষেপ আরও জটিল হতে পারে, কারণ ইউরোপ যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল। ন্যাটোতে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত জুলিয়ান স্মিথ বিবিসিকে বলেছেন, ‘গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ইউরোপের উচিত যুক্তরাষ্ট্রের কথা গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া।’ তিনি আরও বলেন, ‘সংযমের আহ্বান যথেষ্ট নয়, বরং বিকল্প পরিকল্পনা এবং নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তির মতো উদ্ভাবনী ধারণা বিবেচনায় আনা উচিত।’
সিএ/এএ


